একাধিক খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার
মালয়েশিয়ায় প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) সফর শেষে দুই দেশ একটি ব্যাপক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক ইস্যুসহ একাধিক খাতে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর করেন তারেক রহমান। ৫৪ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এ সফরকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন দুই দেশের নেতারা।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এমবিএফটিএ) আলোচনা শুরুর অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন উভয় নেতাই। ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দূরদর্শী চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বেসরকারি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদ (জেবিসি) গঠনকেও স্বাগত জানায় তারা।
টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ উচ্চমূল্যের শিল্পখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উৎসাহ দেন দুই দেশের সরকারপ্রধান।
শ্রম সহযোগিতা
বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগ প্রস্তাব আমলে নিয়েছে মালয়েশিয়া। তবে নতুন করে বিদেশি শ্রমিক কোটা অনুমোদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে বলে দেশটি পুনরায় নিশ্চিত করেছে। বিদ্যমান শ্রম সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা এবং নতুন চুক্তির ভিত্তি তৈরিতে যৌথ কার্যদল (জেডব্লিউজি) গঠনে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি ও জ্বালানি
হালাল খাতে বাংলাদেশের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, ফিনটেক, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও সাইবার নিরাপত্তায়ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা। এলএনজি সরবরাহ ও অবকাঠামোসহ জ্বালানি খাতে সহযোগিতার গুরুত্ব স্বীকার করে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা।
প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা
দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে এবং একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ প্রণয়নে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটি (জেসিডিসি) গঠনে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা।
রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়তার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
আসিয়ানে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা পেতে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে মালয়েশিয়া। আঞ্চলিক ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-এ যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায়ও সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানব পাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবেলায় যৌথ প্রচেষ্টার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন দুই নেতা।
মতামত দিন