‘প্যাক্স সিলিকা’য় অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের, ‘ওয়াইকো’তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে দেশটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রায় একই সময়ে চীনের সাংহাইভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনে’ (ওয়াইকো) পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার দুটি বিষয়ই জানিয়েছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সের্গিও গর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশটি ভবিষ্যতে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
প্যাক্স সিলিকা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি কৌশলগত উদ্যোগ, যার লক্ষ্য নিরাপদ ও উদ্ভাবননির্ভর সিলিকন সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা—গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি উপকরণ থেকে শুরু করে উন্নত উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর, এআই অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন পর্যন্ত। উদ্যোগটির ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো ‘চাপিয়ে দেওয়া নির্ভরশীলতা’ কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করা উপকরণ ও সক্ষমতাগুলোকে সুরক্ষিত রাখা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই জোটের প্রথম সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অস্ট্রেলিয়া। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই সম্মেলনে ভারতও আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যোগ দেয়।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, চীনের আধিপত্যে থাকা উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোই এই উদ্যোগের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াইকোতে প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সাংহাইয়ে সদর দপ্তর স্থাপিত এই আন্তঃসরকারি সংস্থাটি গঠিত হয়েছে গত ১৬ জুলাই। ওই দিন সাংহাইয়ে ২৯টি দেশ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে সই করে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়; এর মধ্যে রয়েছে কাজাখস্তান, লাওস, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। চীনের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও।
সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর করা, বৈশ্বিক ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া, এআই বিকাশের জন্য উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিটি যাতে মানুষের জন্য নিরাপদ ও কল্যাণকর হয় সে লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা। চুক্তি অনুযায়ী, সংস্থাটি জাতিসংঘ সনদের নীতি অনুসরণ করবে এবং মানুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবে।
উল্লেখ্য, সের্গিও গর গত ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনের প্রথম বাংলাদেশ সফরে ছিলেন। সফরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। তাঁর সফরের মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা তৃতীয় স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে নামিয়ে আনা হয়।
মতামত দিন