এইচআরডব্লিউ এর প্রতিবেদন
বাংলাদেশে সহিংসতা বাড়ছে, রাজনীতিতে উপেক্ষিত নারী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নারী, কন্যাশিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের উপস্থিতি সীমিত থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) নারী অধিকার বিভাগের সিনিয়র সমন্বয়ক শুভজিৎ সাহার প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম জানান, কিছু ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী নারীদের স্বাধীন চলাফেরা ও সামাজিক অংশগ্রহণে বাধা দিচ্ছে, যার ফলে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে কট্টরপন্থি ধর্মীয় গোষ্ঠী অন্তর্বর্তী সরকারের নারীর অধিকারের উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালায়। এরপর থেকে নারী ও কন্যাশিশু মৌখিক, শারীরিক ও ডিজিটাল নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, যা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে ২৭ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের উপেক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলে কোনো নারী প্রার্থী নেই। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬ প্রার্থীর মধ্যে একজনও নারী প্রার্থী দিচ্ছে না।
এইচআরডব্লিউ মনে করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা পালন করা জরুরি। এছাড়া সংবিধান অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দায়িত্বও সরকারের।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে