খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের গভীর শোক প্রকাশ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তার নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘গভীরভাবে শোকাহত’ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাত কোনো সমাধান বয়ে আনে না; কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান সম্ভব।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে আজ (সোমবার) দুপুরে জরুরি বৈঠকে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে প্রবাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং আরও সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে সরকার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিহত হন সিলেটের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ। বাহরাইনেও একজন বাংলাদেশি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
কুয়েতে বেসামরিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন হামলায় আহত চার বাংলাদেশি হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়ার রবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন। কুয়েতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।
আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকা পড়েছে। তবে জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে