মিয়ানমারের সঙ্গে ড্রয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করল বাংলাদেশ
শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তবে শেষ ম্যাচে অন্তত নিজেদের জাল অক্ষত রেখে এশিয়ান গেমস শেষ করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ‘এফ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শক্তিশালী মিয়ানমারকে রুখে দিয়েছে সাবিনা খাতুনদের দল।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাপানের নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ড্রয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসে নিজেদের অভিযান শেষ করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
‘এফ’ গ্রুপে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল বড় ধাক্কা দিয়ে। প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারে দলটি। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও একই চিত্র। তিন দিন পরের সেই ম্যাচে ৬-০ গোলে হারে বাংলাদেশ।
প্রথম দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করা বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিপক্ষে মাঠে নামে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে। সমীকরণের হিসাবে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনাও ছিল। শেষ পর্যন্ত জয় না এলেও অন্তত হার এড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মিয়ানমার। দ্বিতীয় মিনিটেই পরপর দুটি শট নেয় তারা। এর একটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। ২০ মিনিটে মিয়ানমারের আরও একটি প্রচেষ্টা রুখে দেয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগ।
তবে পাল্টা আক্রমণেও সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ১৯ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের ফ্রি-কিক এবং ৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই চালিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে জয়সূচক গোলের জন্য চাপ বাড়ায় মিয়ানমার। ৭৭ থেকে ৭৮ মিনিটের মধ্যে বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে তারা। একাধিক কর্নারও আদায় করে নেয়। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত গোল পায়নি মিয়ানমার।
বাংলাদেশও শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে। ৮৬ মিনিটে ঋতুপর্ণার জোরালো শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। এরপর ফিরতি আক্রমণ থেকে অফসাইডে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
শেষ বাঁশি বাঁজা পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয় ম্যাচটি। টানা দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করার পর মিয়ানমারের বিপক্ষে নিজেদের জাল অক্ষত রেখে মাঠ ছাড়াটা বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য কিছুটা স্বস্তিরই।
মতামত দিন