পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় বাংলাদেশের
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাটকীয় সমাপ্তির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২–০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে সফরকারী পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করল স্বাগতিকরা।
ম্যাচে চতুর্থ দিন শেষে জয়ের জন্য ১২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে লড়াইয়ে ছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে তাদের প্রয়োজন ছিল ১০৪ রান, হাতে ছিল ৩ উইকেট। অন্যদিকে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে নিতে হতো শেষ তিনটি উইকেট।
পঞ্চম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১৫ মিনিট দেরিতে শুরু হয় ভেজা আউটফিল্ডের কারণে। পাকিস্তানের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান ধীরে শুরু করেন, উইকেট না হারিয়ে ম্যাচ টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করলেও শুরুতে উইকেটের দেখা পায়নি।
নাহিদ রানা তার গতির ঝড় দিয়ে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিলেও রিজওয়ান ও সাজিদ বেশ সাবধানে খেলেন। কিছুটা সুযোগ তৈরি হলেও ফিল্ডারদের ভুলে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
দীর্ঘ প্রতিরোধের পর গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। ৩৬ বলে ২৮ রান করা সাজিদ খানকে তিনি স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ বানান। এই উইকেটেই ভেঙে যায় পাকিস্তানের প্রতিরোধ জুটি।
এরপর ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে। সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আউট করেন শরিফুল ইসলাম। এই উইকেটের পরই ম্যাচ কার্যত বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং স্টেডিয়ামে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিকরা।
রিজওয়ানের বিদায়ের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। পরের ওভারেই খুররাম শাহজাদকে ফিরিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। এরপর দ্রুতই শেষ দুই উইকেট হারিয়ে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের বোলাররা শেষ দিনে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং উপহার দেন, যেখানে স্পিন ও পেসের সমন্বয় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখে পুরো সময়।
পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ৬ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর হয়ে ওঠেন।
নাহিদ রানা নেন ২টি উইকেট, আর শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি করে উইকেট।
এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে ২–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে এই সাফল্যকে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ছিল সিদ্ধান্তমূলক।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে