ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে ১১.৬ শতাংশ শক্তিশালী টাকা
ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এখন এক টাকা দিয়ে বেশি ভারতীয় রুপি পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী, দুই বছরে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু গত এক বছরেই এই বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিনিময় হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে প্রায় ০ দশমিক ৭৮১ ভারতীয় রুপি পাওয়া গেছে। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের একই দিনে এই হার ছিল প্রায় ০ দশমিক ৭২৬ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার বিপরীতে পাওয়া যেত প্রায় ০ দশমিক ৭০০ রুপি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
উল্টো হিসাবেও টাকার এই শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্ট। ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একটি ভারতীয় রুপি কিনতে প্রয়োজন হয়েছে প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে একই পরিমাণ রুপি কিনতে লাগত প্রায় ১ টাকা ৩৭ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে একটি ভারতীয় রুপি কেনার খরচ কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা। দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর একটি ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ৪৩ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থানের প্রতিফলন রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত তথ্যে ভারতীয় রুপির ক্রস রেট ছিল ১ টাকা ২৮ দশমিক ০৭ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৮ দশমিক ২৫ পয়সা। এর আগের কার্যদিবস ২১ সেপ্টেম্বর এই হার ছিল ১ টাকা ২৭ দশমিক ৮৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৭ দশমিক ৯৬ পয়সা। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়েও দুই দেশের মুদ্রার বিনিময় হারে টাকার তুলনামূলক শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বাড়ার প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য ও সেবা আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মুদ্রায় খরচ কিছুটা কমতে পারে। একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য কিনতে আগের তুলনায় কম টাকা প্রয়োজন হওয়ায় আমদানিকারকেরা কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।
তবে টাকার মূল্য বাড়লেই আমদানি করা পণ্যের বাজারদর একই অনুপাতে কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়, শুল্ক-কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের মতো বিষয়গুলোও চূড়ান্ত দামের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে বিনিময় হার অনুকূলে থাকলেও এর পুরো সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে কতটা পৌঁছাবে, তা অন্যান্য বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। হোটেল, খাবার, পরিবহনসহ ভারতে স্থানীয় মুদ্রায় করা বিভিন্ন ব্যয়ের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও জানিয়েছেন, বিদেশ ভ্রমণের মোট খরচ নির্ধারণে শুধু বিনিময় হার নয়, অন্যান্য ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত দিন