গাজায় চলমান নৃশংসতা, ব্যাপক প্রাণহানির নিন্দা বাংলাদেশের
গাজায় চলমান নৃশংসতা এবং নিহতের অত্যাধিক সংখ্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান দশম জরুরি বিশেষ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যা গত বছরের ১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেয়া রায়কে নিশ্চিত করেছে।
এর পরদিনই বৃহস্পতিবার গাজায় চলমান নৃশংসতা এবং ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়ে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৭২৮ নম্বর প্রস্তাব উল্লেখ করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান তিনি।
এক বছরের মধ্যে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বন্ধ এবং দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে উত্থাপিত ফিলিস্তিন প্রস্তাবটির সহ-স্পন্সরও ছিল বাংলাদেশ সহ ৫৩টি দেশ। বুধবার ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ১২৪টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়ায় প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়, ১৪টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয় আর ভোটদানে বিরত ছিল ৪৩টি দেশ।
এতে ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনে বেআইনি উপস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। যার প্রথম পদক্ষেপ গাজায় তার সামরিক অভিযান শেষ করা। অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ থেকে উদ্ভূত সমস্ত ক্ষতি, ক্ষয়ক্ষতি বা আঘাতের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানানো হয়েছে প্রস্তাবে।
জাতিসংঘের মহাসচিবকে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপনেরও অনুরোধ জানায় সাধারণ পরিষদ।
বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের আলোকে ইসরায়েলের সংঘটিত নৃশংস অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব সংস্থা ।
কো-স্পন্সর হিসেবে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশও। রাষ্ট্রদূত মুহিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের আলোকে গ্রহীত প্রস্তাবটিকে ঐতিহাসিক বলে স্বাগত জানান এবং সব সদস্য রাষ্ট্রকে এটি মেনে চলার আহ্বান জানান। জোর দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমান্তের ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানই মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি অর্জনের একমাত্র পথ।
গাজার মানবিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব ও মানবাধিকার হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রশংসা করেন মুহিত।
গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নৃশংস প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে দখলদার দেশটি । চলমান যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকীকে সামনে রেখে হামাস পরিচালিত গাজা অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বাহিনীর বর্বরতায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪১ হাজার ২৫২ ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরো ৯৫ হাজার।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এক হাজার ২০৫ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। হামাস যোদ্ধারা ২৫১ জনকে জিম্মি করে, যাদের ৯৭ জন এখনও গাজায় বন্দি। ওই বন্দিদের ৩৩ জনকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে