Views Bangladesh Logo

নেচার ইনডেক্সে ৭ ধাপ এগোল বাংলাদেশ, বিশ্বে ৫৪তম

বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ধারাবাহিক অগ্রগতির স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সূচক ‘নেচার ইনডেক্স’-এ সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৯৪টি দেশের গবেষণার সার্বিক চিত্র নিয়ে প্রকাশিত এই তালিকায় বাংলাদেশ এবার ৫৪তম স্থান অর্জন করেছে, যা গত বছর ছিল ৬১তম। অগ্রগতির পাশাপাশি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের ১৩তম অবস্থান সফলভাবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

বিশ্বজুড়ে ১৭৮টি শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধের ভিত্তিতে নেচার ইনডেক্স প্রকাশ করা হয়। বৈশ্বিক এই সূচকে বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিমণ্ডলের এক ইতিবাচক ছবি ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের গবেষকদের মোট ১৪৩টি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেশটির সার্বিক অবদানের শেয়ার ছিল ৩৫.৭৪। তবে বৈশ্বিক অবস্থানে উন্নতি সত্ত্বেও ২০২৪ সালের তুলনায় এবার আন্তর্জাতিক উচ্চ-প্রভাবশালী (হাই-ইমপ্যাক্ট) জার্নালগুলোতে বাংলাদেশি নিবন্ধের সার্বিক অবদানের হার সামান্য কমেছে।

দেশের ভেতরে গবেষণা চালনায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদের ৩৭টি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২১টি নিবন্ধ নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ১৪টি, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৯টি এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ৬টি করে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। তালিকায় অন্যান্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআরআরআই) ২টি নিবন্ধ স্থান পেয়েছে।

একই সূচকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে শীর্ষ স্থান দখল করেছে চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়। সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক তালিকায় চীনের আধিপত্য ছিল লক্ষণীয়—শীর্ষ ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টিই তাদের দখলে। রসায়ন ও ফলিত বিজ্ঞানের গবেষণায় চীনারা এগিয়ে থাকলেও স্বাস্থ্য ও সমাজবিজ্ঞানে এখনও প্রাধান্য ধরে রেখেছে পশ্চিমা বিশ্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে টানা শীর্ষস্থান বজায় রাখা চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস মোট ১২,৮২২টি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে; এমনকি এই ক্যাটাগরির সেরা ১০টির ৯টি প্রতিষ্ঠানই চীনের।

দেশভিত্তিক সার্বিক র‍্যাংকিংয়ে ৫৮,৫৩২টি নিবন্ধ নিয়ে চীন প্রথম স্থানে রয়েছে। এর পরপরই ৩৬,৮৬০টি নিবন্ধ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, ১২,১৭৬টি নিয়ে তৃতীয় স্থানে জার্মানি, ১১,৬৪০টি নিয়ে চতুর্থ স্থানে যুক্তরাজ্য এবং ৬,৮০৭টি নিবন্ধ নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে জাপান।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ভারত। ৩,৫৪২টি নিবন্ধ নিয়ে দেশটি বৈশ্বিক তালিকার ৮ম স্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে ৩৬৫টি নিবন্ধ নিয়ে বাংলাদেশের ঠিক এক ধাপ ওপরে অর্থাৎ ৪৪তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ৮৮তম, শ্রীলঙ্কা ৯৫তম, আফগানিস্তান ১১৪তম এবং মিয়ানমার ১২৩তম অবস্থানে রয়েছে। আর ১টি গবেষণা নিবন্ধ নিয়ে তালিকার একদম শেষে অর্থাৎ ১৯৪তম স্থানটি রয়েছে মাইক্রোনেশিয়া।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ