Views Bangladesh Logo

প্রযুক্তিকে ঘৃণা-সহিংসতা নয়, টেকসই উন্নয়নে ব্যবহারের আহ্বান বাংলাদেশের

নতুন প্রযুক্তিকে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার না বানিয়ে টেকসই উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিকাশের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, সমতা ও বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার (ডিডিপিএ) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে অনলাইন ও বাস্তব জীবন উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের বৈচিত্র্য, অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ২৫ বছর আগে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় জাতি, বর্ণ, বংশপরিচয় এবং জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য দূর করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে বিশ্ব এখনো কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। এ প্রেক্ষাপটে ডিডিপিএর পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ঐতিহাসিক বৈষম্যের শিকড় মোকাবিলায় ন্যায়বিচার, শিক্ষা, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান আইরিন খান। বিশেষ করে দাসপ্রথা, ঔপনিবেশিকতা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক অবিচারের কারণে তৈরি কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ছাড়া অভিবাসী, শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ, সংখ্যালঘু, নারী, শিশু এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তাঁর মতে, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বৈশ্বিক অগ্রগতির সুফল যেন সমাজের সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ