Views Bangladesh Logo

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে গড়িয়েছিল এক রুদ্ধশ্বাস ক্রিকেট সন্ধ্যা। যেখানে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল শেষ ওভারে ১৪ রান, আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল একটি মাত্র উইকেট। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা জিতে নিল বাংলাদেশই। ১১ রানের রোমাঞ্চকর জয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার অধীনে প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ১১ বছর পর আবারও সেই কীর্তি গড়ল টাইগাররা। এবার তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

তানজিদের অভিষেক সেঞ্চুরিতে বড় পুঁজি
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হয় বাংলাদেশের। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান মিলে গড়েন ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৫৫ বলে ৩৬ রান করা সাইফ ফিরলেও তানজিদ থামেননি। এক প্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি করার পর ৯৮ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তানজিদ। ১০৭ বলে ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংসে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা মারেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার বিদায়ের পর লিটন দাস (৪১) ও তাওহীদ হৃদয়ের (৪৮*) ব্যাটে ২৯০ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেটে দারুণ জুটি উপহার দেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। এসময় দুজন মিলে তোলেন ৬৮ রান। তাতেই বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় দল। হারিস রউফের বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ রান করেন লিটন দাস। আর পরের উইকেটে নেমে রানের দেখা পাননি রিশাদ হোসেন। প্রথম বলেই বোল্ড হন তিনি। এরপর আফিফকে নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৪ বলে ৪৮ রানে। আর ৫ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ।

তাসকিন-রানার পেস তাণ্ডব
জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরুতে পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। তাসকিনের প্রথম ওভারেই ফিরেন শাহিবজাদা ফারহান। পরের ওভারে নাহিদ রানা ফেরান মাজ সাদাকাতকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করে পাকিস্তানের টপ অর্ডার পুরোপুরি ভেঙে দেন তাসকিন। ১৭ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান।

সালমানের লড়াই, তবে শেষ রক্ষা হলো না
একশর আগেই ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে এক হাতে টেনে নিয়ে যান সালমান আলি আগা। অভিষিক্ত সাদ মাসুদের সঙ্গে গড়েন ৭৯ রানের জুটি। মাসুদ (৩৮) ফিরলেও সালমান থামেননি। ৮৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। কিন্তু সেঞ্চুরির পর বেশিদূর যেতে পারেননি। তাসকিনের স্লোয়ারে বোকা বনে গিয়ে আউট হন ১০৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা সালমান।

তার বিদায়ের পর পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্ন শেষ করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন। শেষ ওভারে রিশাদ হোসেন দুর্দান্ত বোলিং করে দলকে এনে দেন অবিস্মরণীয় জয়। এদিন বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন একাই নেন ৪টি উইকেট। মোস্তাফিজ নেন ৩টি ও নাহিদ ২টি উইকেট।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন হারিস রউফ। আবরার ও শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন একটি করে উইকেট।

এই জয়ের পথে আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ