রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে রিজার্ভ থেকে নিলামের মাধ্যমে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ বিরতির পর গত সপ্তাহেও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবারের নিলামে প্রতিটি ব্যাংককে একক বিডে ন্যূনতম ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডেকেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনেক ব্যাংক এতে অংশ নিলেও শেষ মুহূর্তে নিলামটি বাতিল করা হয়। কেন নিলাম বাতিল করা হয়েছিল, তা ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত টানা তিন বছর রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করা হয়। এতে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
তবে গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর স্পষ্টভাবে জানান, রিজার্ভ থেকে এক ডলারও বিক্রি করা হবে না। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই অবস্থান বজায় রাখেন। এতে রিজার্ভ বেড়ে গত ২৯ জুন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। এরপর আবার কমে গত মঙ্গলবার ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরায়েলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতির আশা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেল ও ডলারের দাম কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।
দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েক দিন ধরে ডলারের দাম বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ছাড়িয়েছে। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সায়।
এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১২৩ টাকা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে মাসের শেষ কর্মদিবসে তা ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দাম ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। চলতি বছরের মার্চ থেকে বাড়তে বাড়তে তা বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।
মতামত দিন