নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
নির্বাচনের আগে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) জন্য এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং বিনিয়োগ লক্ষ্য বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই নতুন মুদ্রানীতির ঘোষণা দেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকার আমলের এবং বর্তমান গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।
মুদ্রানীতি মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ এবং বৈদেশিক সম্পদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রতি বছর দুইবার (জানুয়ারি–জুন এবং জুলাই–ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও বর্তমানে মূল্যস্ফীতি৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। মূলত ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেয়।
অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়।
গভর্নর জানান, আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে।
বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আগের মুদ্রানীতিতে বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশায় নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
একইভাবে সরকারি খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে এই খাতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ২১ দশমিক ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে