নীতি সুদহার ১০ শতাংশ বহাল রেখে মুদ্রানীতি ঘোষণা
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে নীতি সুদহার আগের মতোই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
গভর্নর মোস্তাকুর রহমান মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে মুদ্রানীতির বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন।
পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় তিনি বলেন, আগামী মুদ্রানীতিতেও ‘সংকোচনমূলক ধারা’ বজায় রাখা হবে। নীতি সুদহারে কোনো পরিবর্তন না এনে তা ১০ শতাংশেই বহাল থাকবে।
একইভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য সুদহারের মধ্যে এসএলএফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশ ও এসডিএফ সাড়ে ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে মূল্যস্ফীতিও অন্তত সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।’
মোস্তাকুর রহমান গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত প্রথম মুদ্রানীতি, যেখানে সরকারের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরির জন্য তারল্য নিয়ন্ত্রণের কৌশল সাজানো হয়েছে।
সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে কী পরিমাণ অর্থের সরবরাহ থাকবে, তার সম্ভাব্য পরিকল্পনা থাকে মুদ্রানীতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত সর্বশেষ মুদ্রানীতির ধারাও ছিল সংকোচনমূলক, তখনও নীতি সুদহার ছিল ১০ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়াতে শুরু করে। তারপরও ২০২৪ সালে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে গড়ায় এবং ওই বছরের জুলাই মাসে রেকর্ড ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়।
ওই মাস থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরের মাসে অভ্যুত্থানের রূপ নিলে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোমাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়, যাতে মূল্যস্ফীতিও কমে আসতে শুরু করে। তবে তা এখনও ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
মতামত দিন