পণ্যের দাম ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে হেজিং সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে আমদানিকারকদের জন্য কমোডিটি প্রাইস রিস্ক হেজিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে সোমবার নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য আমদানিকারকদের পণ্যের মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সুবিধা দিতে পারবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানিকারকেরা আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পারবেন। এতে ব্যবসার ব্যয় পরিকল্পনা করাও সহজ হবে।
পণ্যের দামের পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও উৎপাদক—উভয় পক্ষই আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকেন। পণ্যের দাম বেড়ে গেলে ক্রয়মূল্য বাড়ে, ফলে ব্যবসার মুনাফা কমে যেতে পারে। আবার দাম কমে গেলে উৎপাদকেরা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েন।
এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন হেজিং কৌশল ব্যবহার করা হয়। এসব চুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের দামের বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে ব্যবসায় অনিশ্চয়তা কমে। তেল, ইস্পাত, কৃষিপণ্যসহ যেসব পণ্যের দামের বড় ধরনের পরিবর্তন উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় ও ব্যবসার লাভ-ক্ষতির ওপর প্রভাব ফেলে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এ সুবিধা বিশেষভাবে কাজে আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকৃত আমদানি দায়ের বিপরীতে যোগ্য আমদানিকারকেরা কমোডিটি ফিউচার, সোয়াপ, কমোডিটি সূচকভিত্তিক ফরোয়ার্ড চুক্তি ও অপশনসহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত বিভিন্ন হেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।
কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, জ্বালানি, ভোজ্যতেল, ধাতু, শস্য ও সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিকারকেরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। আমদানিকারকেরা প্রকৃত আমদানি ঝুঁকির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হেজ করতে পারবেন। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হেজিং জল্পনামূলক ব্যবসার সুযোগ নয়। এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমানো। এডি ব্যাংকগুলোকে যথাযথ যাচাই, নথি সংরক্ষণ, ঝুঁকি প্রকাশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মতামত দিন