Views Bangladesh Logo

টিকা সংকটের কারণে বাংলাদেশে হামের ঝুঁকি ‘উচ্চ’: ডব্লিউএইচও

বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। টিকা সংকটের কারণে দেশটিকে “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে দেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সম্ভাব্য হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ২ হাজার ৮৯৭ জনের দেহে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে সর্বমোট ২ হাজার ৯৭৩ জন হাম রোগী নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৩০ জনের মৃত্যু হাম-সম্পর্কিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংস্থাটি জানায়, দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতে হামের রোগী পাওয়া গেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে এবং ৩৩ শতাংশের বয়স নয় মাসের নিচে। অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনাও টিকা না পাওয়া দুই বছরের নিচের শিশুদের মধ্যে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই টিকা নেয়নি বা মাত্র একটি ডোজ পেয়েছে। আবার অনেক শিশু নয় মাস বয়সে টিকা নেওয়ার যোগ্য হওয়ার আগেই সংক্রমিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ১–১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯১ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে, যা বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতি নির্দেশ করে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, চলমান সংক্রমণ, বিপুল সংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ শিশু, রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি এবং হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু—সব মিলিয়ে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।

এমন পরিস্থিতিতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মতো জনবহুল ও সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ এবং প্রতিটি এলাকায় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ ছাড়াও স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবহন ও পর্যটন কর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের টিকাদানের আওতায় আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অতীতে হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। ২০০০ সালে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে ১১৮ শতাংশে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ২০১২ সালে ২২ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ১২১ শতাংশে উন্নীত হয়। তবে ২০২৪-২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে এমআর টিকার তীব্র সংকট এবং ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী বড় কোনো টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় বিপুল সংখ্যক শিশু রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ