Views Bangladesh Logo

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর এসডিজি অর্জনে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের আহ্বান

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং এই তালিকা থেকে সফলভাবে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি বৃদ্ধি, স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে অর্থায়ন বাড়ানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চ-স্তরের অধিবেশনে এলডিসি ব্লগের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় ড. তিতুমীর এই আহ্বান জানান। সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এই ভাষণে তিনি ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির (ডিপিওএ) প্রতি এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) হ্রাস, ডিজিটাল বৈষম্যের বিস্তার এবং সাশ্রয়ী অর্থায়নের সীমিত প্রবেশাধিকার স্বল্পোন্নত দেশসমূহের ২০৩০ অ্যাজেন্ডা ও দোহা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং এ দেশগুলোর ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং বহিরাগত অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণ-প্রস্তুতি পর্ব ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে।

এ সময় আগামী বছর দোহায় অনুষ্ঠিতব্য ডিপিওএ মধ্যবর্তী পর্যালোচনা সম্মেলনকে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন উপদেষ্টা। সেই সম্মেলনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ
নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশীয় ও বৈশ্বিক জটিল পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর জন্য এই অতিরিক্ত সময় কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি' (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।

ড. তিতুমীর বলেন, এ বাস্তবতায় দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে এলডিসিগুলোর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

এলডিসি গ্রুপের পক্ষে পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয় তুলে ধরে উপদেষ্টা সাশ্রয়ী মূল্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়নের সহজলভ্যতা, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর রপ্তানি পণ্যের বাজার সুবিধা অক্ষুণ্ন রাখা এবং ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে শক্তিশালী বৈশ্বিক সহযোগিতার তাগিদ দেন।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আন্তর্জাতিক সংহতির একটি পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সব অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ