শতাধিক পর্যটক নিরাপদে, বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ১০ জুলাই পর্যন্ত
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া শতাধিক পর্যটক অক্ষত অবস্থায় উপজেলা সদরে পৌঁছেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টুরিস্ট গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা। এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার ৭ উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয় রিসোর্টমালিকদের সহযোগিতায় আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন, রেমাক্রী বাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে গাইডসহ ৭৪ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। নদীর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তাদের নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এ ছাড়া আমিয়াখুম এলাকায় আটকে থাকা ১৮ জন পর্যটককে গাইডদের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাইগং ঝর্ণায় আটকে থাকা আরও ১০ পর্যটক ইতিমধ্যে থানচি উপজেলা সদরে পৌঁছেছেন।
ভারী বৃষ্টিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়া এবং তীব্র স্রোতের কারণে থানচির তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুমসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় আটকা পড়েছিলেন পর্যটকেরা। বৈরী আবহাওয়ায় আপাতত পর্যটকদের নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে থানচি সদরের সঙ্গে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের সব ধরনের নৌযোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় থানচি উপজেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের ৭টি উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে জেলার সব ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
বান্দরবান জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান-থানচি সড়কের কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। তবে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত মাটি ও পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। থানচি-নীলগিরি এলাকায় সড়ক সচল রাখতে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোত, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাইকে থানচির পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। জেলার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
মতামত দিন