অশুল্ক বাধা দূর না হলে বাংলাদেশ-ফ্রান্সের ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্ভব নয়: ফরাসি রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য গড়ে তুলতে অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শুল্কের চেয়ে অশুল্ক বাধাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সিনেট ভবনে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসাডর’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্সের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ফরাসি ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো এখনও নানা প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সে ১০ ধরনের পণ্য রপ্তানি করলেও ফ্রান্স বাংলাদেশে কার্যত একটি প্রধান পণ্যই রপ্তানি করে। টেকসই বাণিজ্যের জন্য দুই দেশের ব্যবসায়িক সুযোগ আরও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
অশুল্ক বাণিজ্য বাধার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি মানদণ্ড, জটিল বিধিবিধান, দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিদেশি ব্যবসার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো খাদ্যপণ্য কাস্টমসে দীর্ঘদিন আটকে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে সেই দেশে রপ্তানিতে আগ্রহ হারাতে পারে।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিধিনিষেধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ফ্রান্স প্রস্তুত বলেও জানান।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে অভিন্ন মূল্যবোধসম্পন্ন দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের সমালোচনার পাশাপাশি ২০০৩ সালে জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতেই আমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে।
মতামত দিন