ইউএনওকে আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়েই জরিমানা
সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ‘ইউএনওকে আপা ডাকায় জরিমানা’—এমন শিরোনামে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক শুরু হলে এ দাবিকে সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বনফুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল এবং এর আগেও প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছিল।
ইউএনও জানান, সম্প্রতি ক্রেতা সেজে তিনি বনফুলের তাজপুর শাখায় যান এবং সেখানে পুরোনো বা বাসি মিষ্টি বিক্রি হতে দেখেন। মিষ্টির উৎপাদনের সময় জানতে চাইলে কর্মচারীরা একেকজন একেক তথ্য দেন এবং চালানপত্র দেখাতে প্রথমে গড়িমসি করা হয়; পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল উপস্থিত হলে কাগজপত্র দেখানো হয়। তিনি বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে এক কর্মচারী নতুন মিষ্টির সঙ্গে পুরোনো মিষ্টি মিশিয়ে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন।
‘আপা’ সম্বোধন প্রসঙ্গে মুনমুন নাহার আশা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়া এক কর্মচারী পরে এসে তাকে ‘আপা’ বলে ক্ষমা চান; তবে এর সঙ্গে জরিমানার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, কাউকে ‘আপা’ ডাকা কোনো অপরাধ নয় এবং এ কারণে কাউকে শাস্তি বা জরিমানা করা হয়নি—জরিমানা করা হয়েছে বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে।
তিনি আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে অনেকেই তাকে আপা, খালাসহ নানা সামাজিক সম্বোধনে ডাকেন; ‘আপা’ ডাকা আইনে দণ্ডনীয় কিছু নয়, তাই এ কারণে জরিমানার সুযোগও নেই। বিষয়টিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সম্ভবত ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইউএনও জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনো ব্যক্তিকে নয়, প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে; প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তা পরিশোধ করেছে এবং অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
বনফুলের তাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়াও একই কথা বলেন। তার ভাষ্য, এটি ‘আপা’ ডাকাকে কেন্দ্র করে কোনো ঘটনা নয়; পণ্যের মান ও বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগেই ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৩ জুন) অভিযানের পর ‘ইউএনওকে আপা ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’—এমন শিরোনামে কয়েকটি সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ভাইরাল হয়। এরপর আলোচনা তৈরি হলে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয় পক্ষই স্পষ্ট করে, জরিমানার কারণ ছিল বাসি মিষ্টি বিক্রি—কোনো সম্বোধন নয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে