Views Bangladesh Logo

২০৩১ সালের মধ্যে জুয়েলারি খাত থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য বাজুসের

দেশের জুয়েলারি খাতকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সোনা ও হীরার অলংকার থেকে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মাধ্যমে এ খাতকে তৈরি পোশাক খাতের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করতে চায় সংগঠনটি।

শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল-২০২৬’-এ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান তাঁর লিখিত বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাজুস জানায়, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ও ৪ লাখ দক্ষ কারিগরের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।

লিখিত বক্তব্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিশ্চিত করে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমানের দেশীয় অলংকার পৌঁছানোর সময় এসেছে। শিল্পের বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা হলে স্থানীয় বাজারে প্রতি ভরি অলংকারের দাম অন্তত ৩০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব বলে মত দেয় বাজুস।

একই সঙ্গে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়িত হলে খাতটি থেকে সরকার বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তি রাজস্ব পেতে পারে। এছাড়া বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত সোনা এককালীন নির্দিষ্ট ফি প্রদানের মাধ্যমে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হলে সরকার আরও ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা এককালীন রাজস্ব পাবে এবং দেশে মোট সোনা মজুতের একটি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়ে উঠবে।

ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা হিসেবে বাজুস ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় দক্ষ কারিগরদের সমন্বয়ে ৫০০টি আধুনিক জুয়েলারি কারখানা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এতে ৫০ হাজার মানুষের সরাসরি এবং এক লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অতিরিক্ত ০.৫ শতাংশ অবদান রাখবে। এই লক্ষ্য অর্জনে ঢাকার আশপাশে ১০ বিঘা জমির ওপর 'স্বর্ণপল্লী' নামে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি, যেখানে আধুনিক অলংকার তৈরির পাশাপাশি বিশেষায়িত হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ২০০৬ সালের অমসৃণ হীরা সংক্রান্ত বিধিমালা যুগোপযোগী করা এবং শুল্কহার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রস্তাবিত স্বর্ণপল্লীতে হীরা প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করা গেলে ৫ থেকে ১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে কেবল হীরার অলংকার থেকেই বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করে বাজুস।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ