আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নয়, কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত: ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, কিন্তু দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি।
লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘সরকার একটি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়।’
ইউনূস বলেন, ‘ওদের মিছিল-মিটিং আর নেতাদের হুমকির কারণে দেশের মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না।’ তিনি বলেন, ‘তাই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘জুলাই হত্যা’ মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। ‘আমরা বিচার শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্তভাবে করছি না,’ বলেন তিনি।
ড. ইউনূস প্রশ্ন তোলেন, একটি দল যদি রাস্তায় তরুণদের হত্যা করে, মানুষ গুম করে, অর্থ আত্মসাৎ করে, তাহলে কি তারা আদৌ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে?
তিনি বলেন, ‘দলটির কিছু নেতা বিদেশ থেকে এখনো সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। ১০ মাস পার হয়ে গেছে, তবুও তারা কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের তিনটি মূল লক্ষ্য: সংস্কার বাস্তবায়ন, হত্যা ও গুমের বিচার এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনের আগে ‘জুলাই চার্টার’ নামে একটি ঐকমত্যভিত্তিক ঘোষণা প্রকাশ করা হবে।
আওয়ামী লীগের বিচার কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘জনগণ আমাদের এই দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা সেই দায়িত্বই পালন করছি।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এতটা স্বাধীনভাবে সাংবাদিকরা কাজ করতে পারেনি। এখন সাংবাদিকরা যা খুশি লিখতে পারছেন।’
ড. ইউনূস গত ৯ জুন চার দিনের সরকারি সফরে লন্ডনে যান। তিনি ১৪ জুন দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে