Views Bangladesh Logo

কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা মুক্তিযুদ্ধের সেই ম্যুরালটি ভেঙে ফেললো জেলা প্রশাসন

লালমনিরহাট শহরের বিডিআর রোডে শিশু পার্ক সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্মারক মঞ্চে ঢেকে রাখা ম্যুরালটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

রোববার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ম্যুরালটি ভেঙে ফেলেন শ্রমিকরা। তারা জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ম্যুরালটি ভাঙছেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্মারক মঞ্চের ম্যুরালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ, মুজিবনগর সরকার গঠন, স্বাধীন ভূখণ্ডে নব রবির উদয়, একাত্তরের গণহত্যা, বিজয়ে উচ্ছ্বসিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, জাতীয় পতাকা হাতে উল্লসিত জনতা ইত্যাদি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বুধবার (২৬ মার্চ) জেলা প্রশাসন ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত লালমনিরহাট সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেছিলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতীয়মান না হওয়ায় ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে'।

শনিবার (২৯ মার্চ) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক রাসেল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা বায়ান্ন, একাত্তরকে চব্বিশের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাই না'।

টিআইবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো. মোরশেদ আলম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ঢেকে রাখার প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমি এখন ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। ম্যুরাল ভাঙার বিষয়টি আমার জানা নেই। লালমনিরহাট সনাকের সভাপতি বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক অসুস্থ। আমরা সবাই এ নিয়ে পরে প্রতিবাদ জানাবো'।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অতিক্রমের আহ্বায়ক সাংবাদিক হেলাল কবির বলেন, ‘ম্যুরালটি ভাঙা হয়েছে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে। ঢেকে রাখারও নির্দেশ ছিল তার। অন্য কেউ এ নিয়ে আপত্তি জানায়নি।’

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যুরাল ভাঙার সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসকের। তার কাছেই এ বিষয়ে জানতে চান'।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ