ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিন: গ্রিন-স্টার্কের দৃঢ়তায় ইনিংস হার এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার লিড
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নাটকীয় মোড় নিয়েছে ম্যাচের চতুর্থ দিন। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর বাংলাদেশ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের দৃঢ় ব্যাটিং ও মিচেল স্টার্কের সঙ্গে তার জুটি স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়। দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ চাপ বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে নিজেদের প্রথম ইনিংসের ঘাটতি পুষিয়ে লিড নিতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া।
আগের দিনের ১৬১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে শুরু থেকেই পরীক্ষা দিতে হয় গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারিকে। তবে মিরাজ বল হাতে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তার অফস্পিনে ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্স সাজঘরে ফেরেন। ক্যারি ৩০ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করেন মিরাজ। কামিন্সও ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হয়ে ফেরেন।
একপ্রান্তে অবশ্য অবিচল ছিলেন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং যখন একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। দিনের শুরুতে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা গ্রিন নিজের ইনিংসকে আরও বড় করেন। তার সঙ্গে স্টার্কও কার্যকর ভূমিকা রাখেন। দুই ব্যাটারের প্রতিরোধে বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে থাকে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মুমিনুল হকের ৪৯ রানের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ গড়ে সফরকারীরা। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে ৪২৬ রানে পৌঁছে দেয়। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের জবাব দিতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন জশ হ্যাজলউড। দীর্ঘ বিরতির পর টেস্টে ফিরে তিনি ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন এবং টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে তার দুর্দান্ত বোলিংও অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে বড় ঘাটতি থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
ম্যাচের চতুর্থ দিনে তাই অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ছিল প্রথমে বাংলাদেশের লিড মুছে ফেলে নিরাপদ অবস্থানে যাওয়া। গ্রিনের ব্যাটিং ও স্টার্কের প্রতিরোধে সেই লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ করেছে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে মিরাজ ও হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে বাংলাদেশও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি। ফলে ডারউইনের এই টেস্টে শেষ পর্যন্ত কোন দল চাপ সামলে জয় ছিনিয়ে নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
মতামত দিন