এক পরিবর্তন নিয়ে নামছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশকে ‘দুর্দান্ত দল’ বললেন কামিন্স
ম্যাট রেনশর একাদশে ফেরাটা অনেকটা নিশ্চিতই ছিল, তবে অস্ট্রেলিয়া চার পেসার নাকি তিন পেসার-এক স্পিনার নিয়ে খেলবে তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও একাদশের কম্বিনেশন নিশ্চিত করতে পারেননি, আরও সময় নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সেই সংবাদ সম্মেলনের পরই তিন পেসার নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তন একটিই। প্রথম টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়া জেক ওয়েদারাল্ডের জায়গায় ঢুকেছেন রেনশ। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলবেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে সেই টেস্টে তিনি খেলেছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে, এবার খেলবেন ওপেনার হিসেবে।
ডারউইনে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়ের ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ১ উইকেট নিতে পেরেছিলেন নাথান লায়ন। তার জায়গায় দ্বিতীয় টেস্টে স্কট বোল্যান্ডকে খেলানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও সর্বশেষ অ্যাশেজে ২০ উইকেট নেওয়া এই পেসারকে আবারও একাদশের বাইরেই থাকতে হচ্ছে। দারুণ ছন্দে থাকা বোল্যান্ডকে একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, তা বোঝা গেছে কামিন্সের কথাতেও।
একাদশের কম্বিনেশন নিয়ে প্রশ্নে কামিন্স বলেন, ‘আরও এক দিন সময় নিতে চাই। এরপর সিদ্ধান্ত নেব, চার পেসার খেলাব নাকি একজন স্পিনার। সিদ্ধান্তটা মূলত কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করছে। যদি মনে হয়, প্রথম বা দ্বিতীয় ইনিংসে পেসারদের দিয়েই দ্রুত ১০ উইকেট নেওয়ার ভালো সুযোগ আছে এবং চতুর্থ ইনিংসে উইকেট খুব একটা ভাঙবে না, তাহলে সেটিও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বিষয়।’ তিনি যোগ করে বলেন, ‘এর সঙ্গে স্কট বোল্যান্ডের মতো একজন দুর্দান্ত বোলারকে বেঞ্চে রাখার বিষয়টিও আছে। সে অসাধারণ মানের বোলার। আমার মনে হয়, এ কারণেই চার পেসার নিয়ে আলোচনা বারবার সামনে আসে।’
একাদশে জায়গা ধরে রেখেছেন মারনাস লাবুশেনও। সর্বশেষ ২১ টেস্টে সেঞ্চুরি না করা এই ব্যাটসম্যান নিজের সেরাটার কাছাকাছি আছেন বলে মনে করেন কামিন্স। তিনি বলেন, ‘সে একসময় বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান ছিল। হাজার হাজার টেস্ট রান করেছে। তাই বড় রান করার সক্ষমতা তার আছে। গত কয়েক মাসের অনুশীলনে তাকে খুব ভালো ছন্দে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, অনেক দিন পর সে এতটা ভালো অবস্থায় আছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রশংসাও করেছেন কামিন্স। নাজমুল হোসেন শান্ত-হাসান মাহমুদদের পারফরম্যান্স অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলে সবকিছু জিততেই হবে আমাদের। অবশ্যই, ঘরের মাঠে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জিততে চাই। তবে প্রথম টেস্টে আমরা সেরাটা দিতে পারিনি। বাংলাদেশ দারুণ খেলেছে। তারা সত্যিই দুর্দান্ত এক দল।’
আগামীকাল সকাল ৬টায় ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্ট জেতায় বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ রয়েছে, বিপরীতে ঘরের মাঠে সিরিজ হারের শঙ্কায় থাকা অস্ট্রেলিয়া কামব্যাকে মরিয়া, যে কারণে একাদশে পরিবর্তনও এনেছে তারা।
বাঁহাতি ওপেনার রেনশর কাছে সেরাটাই চান কামিন্স। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু চাই, সে যেন নিজের সেরাটা দিতে পারে। অতীতে রেনশকে নিয়ে একটা কথা ছিল—একেক দিন তাকে একেক রকম মনে হয়। তবে ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে একজন ব্যাটারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সেরা অবস্থাটা কেমন, সেটা ভালোভাবে জানা। আমার মনে হয়, সে এখন সেটা জানে। আমাদের আশা, সে যেন নিজের সেরাটা খেলতে পারে। শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙা থেকে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।’
অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত একাদশ: ম্যাট রেনশ, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।
মতামত দিন