সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: আইনমন্ত্রী
বৃদ্ধ বাবা-মা, বিশেষ করে মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের আইনগত উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। অথচ সংশোধিত আইনটি পুরোপুরি না পড়েই কেউ কেউ এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর পিটিআই হলরুমে আয়োজিত চাকরি মেলা ও সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বৃদ্ধ বাবা-মা যাতে জীবনের শেষ সময়ে অসহায় অবস্থায় না পড়েন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধনী নিয়ে নানা আলোচনা হতে পারে, তবে এর মূল লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘হেবা’ আইনে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার সরকারের নেই। ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হেবা আইন বা অন্য কোনো আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর এই সংশোধনীর কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না। দান, উইল কিংবা অন্য কোনো আইনগত উপায়েও সম্পত্তি হস্তান্তরে এই সংশোধনী কোনো বাধা তৈরি করবে না।
তিনি বলেন, সংশোধনীর এই অংশটি অনেকে না পড়েই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছেন। আইনটি ভালোভাবে পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অসংখ্য বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। তারা যাতে সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে জীবনের শেষ সময়টা শান্তিতে কাটাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সংশোধনী আনা হয়েছে। কেউ চাইলে জীবনস্বত্ব না রেখেও একবারে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন—এটি তার অধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আইন মানুষের জন্য এবং মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনা হয়। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ক্ষেত্রেও মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কোনো আইন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে সঠিক তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
মতামত দিন