বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে ২০টি জুতার বাড়ি দিয়ে ‘মীমাংসা’
পাবনার সাঁথিয়ায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধকে থানা-পুলিশ পর্যন্ত যেতে না দিয়ে গ্রাম্য সালিশে মাত্র ২০টি জুতাপেটার মধ্য দিয়ে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার গৌরিগ্রাম এলাকায় ওই কিশোরী বাড়িতে একা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী মহব্বত আলী খাঁ বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। কিশোরীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনায় এ পর্যায়ে মামলা ও গ্রেপ্তার হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।
তার বদলে সেদিনই সন্ধ্যায় হাঁড়িয়াকাহন গ্রামে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে বসে গ্রাম্য সালিশ। সেখানে অভিযুক্তকে ২০টি জুতার বাড়ি মারার রায় দিয়েই বিচারকাজ সেখানেই সম্পন্ন করে ফেলা হয়—অর্থাৎ থানা-আদালত পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়ভাবে তা ‘মিটিয়ে’ ফেলা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ধর্ষণচেষ্টার মতো অপরাধের নিষ্পত্তি গ্রাম্য সালিশে করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এ ধরনের ‘মীমাংসা’ প্রকৃতপক্ষে অপরাধীকে রক্ষা করার শামিল এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার খর্ব করে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে ভুক্তভোগী নিজে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পক্ষে ন্যায়বিচার আদায়ে প্রতিবন্ধকতা আরও বেশি বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কাদের স্বার্থে, কী কারণে এত দ্রুত বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে সালিশের বিষয়টি তারা জেনেছেন এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা অবিলম্বে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুতর অপরাধ সালিশে নিষ্পত্তির প্রবণতা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
মতামত দিন