রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা, ডিবি কার্যালয়ে আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় আটক চারজনকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াস ও একজন নারী রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে আয়াসকে আটক করা হয়েছে। আটক অন্যদেরও ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দেয়ালচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি রাখা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিতার্কিক ডা. আব্দুন নূর তুষার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতি নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, দেয়ালে তাঁদের ছবি থাকা নিয়ে এত আপত্তি কেন।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমির পাশের দেয়ালে ১০ জন লেখক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের কাজী নজরুল ইসলাম, ফকির লালন শাহ, জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, জহির রায়হান, শাহ আবদুল করিম ও হুমায়ূন ফরীদি রয়েছেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও সত্যজিৎ রায়ের প্রতিকৃতিও স্থান পেয়েছে।
সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেয়ালচিত্রগুলো আঁকা হয়। একই উদ্যোগের আওতায় সেখানে ডাস্টবিন স্থাপন এবং পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ বসানো হয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মতামত দিন