অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণমাধ্যমের ওপর হামলা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল: ইফতেখারুজ্জামান
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে ওপর নজিরবিহীন হামলা হয়েছে। এ ঘটনা দেশের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। হামলাগুলো আকস্মিক ছিল না; বরং পূর্বঘোষিতভাবেই সংঘটিত হয়েছে। এসব হামলার পর পরিচিত আইনজীবী, অ্যাক্টিভিস্ট, এমনকি কিছু গণমাধ্যমের ব্যক্তিও তখন রিজয়েস (উপভোগ বা উৎফুল্ল) করেছে। সেজন্য আজকের এ সম্মেলনে আমাদের গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ক্ষেত্রের সমস্যাগুলো নিয়েও আলাপ-আলোচনা করতে।
এ ছাড়াও বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন টিআইবির এই নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, এক দশকে পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনে ইসরাইলের হামলায় ৬০ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে ৩০ জন, পাকিস্তানে ৫০ জনের মতো, বাংলাদেশ ২৬ জন গণমাধ্যম কর্মী নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের এ ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে।
উদ্বোধনের আগে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলস উইক, জিআইজেএনের নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া ডিয়াজ স্ট্রাক ও এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে ৫৪৭ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন এবং ৬১ জন সাংবাদিক ফেলোশিপ পেয়েছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে