বিশ্বনাথে বাউল গানের আসরে হামলা: উরসে মাইক ও গান-বাজনা বন্ধে আপোষ নিষ্পত্তি
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে বাউল গানের আসরে হামলার ঘটনা আপোষ নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে আগামীতে ইব্রাহিম শাহ মাজারের উরসে মাইক ব্যবহার ও গান-বাজনা বন্ধে শর্তে আপোষ মীমাংসা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের হল রুমে বিবদমান দুই পক্ষের সাথে বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা এ তথ্য জানান।
গত রোববার (২২ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসরে হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দেয় একদল লোক। এসময় হামলাকারীরা গানের মঞ্চ ও সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করে এবং ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেয়।
এই ঘটনার জেরে শ্রীপুর জামে মসজিদের কয়েকটি জানালার কাঁচ ভাংচুরের অভিযোগও পাওয়া যায়। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টির হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বুধবার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে তাহসীনা রুশদীর লুনা এমপি বলেন, বিশ্বনাথে ঈদের পরদিন মাজারের ও মসজিদ সংক্রান্ত বিষয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারণে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। ২/৩ দিন ধরে মিডিয়াতে এ নিয়ে অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। যতোটা প্রচার করা হয়েছে, অতটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিলো না।
তিনি বলেন, দুদিন আমরা ঈদের কারণে ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার কারণে সাথে সাথেই আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সাথে কথা বলি। আজকে দুই পক্ষকে নিয়ে সমঝোতায় বসেছিলাম। সবার সাথে আলাপ করে বুঝলাম এটি তেমন গুরুত্বরপূর্ণ কিছু না। বাইরের কিছু উশৃঙ্খল লোকজন এসে মাজারে ঝামেলা তৈরি করে, অসামাজিক কার্যকলাপ করে। এর সাথে মাজার কর্তৃপক্ষ জড়িত নয়। মসজিদেও তেমন কোন ভাঙচুর হয়নি। ইট পাটেকেলে ৩/৪ টি গ্লাস ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে, মসজিদের গ্লাস আমরা মেরামত করে দেবো। স্থানীয় চেয়ারম্যানরা এই দায়িত্ব নিয়েছেন।
মাজারের বিষয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এমপি বলেন, মাজারে উরস হলে মাইক ব্যবহার করা যাবে না। অন্যকে ডিস্টার্ব করা যাবে না। তবে স্পিকার ব্যবহার করতে পারবেন। মাজারে মদ গাঁজাসহ অসামাজিক কার্যক্রম চলবে না। নারী পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে যদি গান বাজনা হয় তবে গজল, পীর-মুর্শিদী গান, জিকির আসকার করা যাবে। অন্য গান করা যাবে না। তবে কোন স্টেজ করা যাবে না।
তিনি বলেন, বিশ্বনাথের সব মাজারের জন্য এসব নির্দেশনা কার্যকর হবে। স্থানীয় প্রশাসন সব মাজার কর্তৃপক্ষ এসব নির্দেশনা জানিয়ে দেবে।
সমঝোতা বৈঠকে বিশ্বনাথের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি ও বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমানসহ দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে