পটুয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াতের দুই দফা সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৫০
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ কয়েকজন নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাউফল থানার সামনে অবস্থা নিয়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এর আগে বেলা ১২টা দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান এলাকার ভান্ডারিয়া বাজারে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রথম দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতাল সড়কে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুইপক্ষ।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে মো. জুয়েল (৩৩), মো. নয়ন (১৭) মোসা. লিমা জাহান (২৫) মো. শাহজালাল (২০), মো. সুজন (২৬), মো. শহিদুল বেপাড়ি (২৭) মো. হাফেজ আনিসুর রহমান (৫৫) মো. আমিনুল মাতুব্বর (৩৫) মো. নুরু মাতুব্বর (৩৫) মো. সাইফুল শরিফ (৩৫) মো. আল আমিন চৌকিদার (২৫) ও মো. সোহাগসহ (২৭) মোট ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া মো. জামাল মৃধা নামে এক জামায়াত কর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা ১২টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা করেন। এ সময় বিএনপির কর্মীরা নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাদের বাধা দেন। খবর পেয়ে মিছিল নিয়ে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা ঘটনাস্থলে আসলে বিএনপির লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুইপক্ষের মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সংঘর্ষ চলে।
এদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল সড়কে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জনতা ভবনের সামনে গিয়ে ফিরে হাসপাতালের কাছে পৌঁছালে মিছিলকারীরা মো. শামিম নামে এক বিএনপি সমর্থককে মারধর করে। এ সময় বিএনপির কর্মীরা এগিয়ে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের বদলির দাবিতে থানার সামনের ফটক এবং বরিশাল-বাউফল সড়ক অবরোধ করে রাখে। সর্বশেষ রাত ৮টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই অবরোধ চলছিল।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। আমরা তার বদলির দাবিতে অনড় অবস্থায় রয়েছি। তার ইন্ধনেই জামায়াতের কর্মীরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ ফিরোজকে ফোন দিলে তিনি নিজেকে অসুস্থ বলে ফোন কেটে দেন।
বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তারা (জামায়াত) যে সব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে এনেছেন, সবগুলোই অভিযোগ মিথ্যা। আমি আমার অবস্থান থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখে চলেছি। চন্দ্রদ্বীপসহ উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করছি।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে