মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, ৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে কোথাও কোথাও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে কাজ না করেই বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।
বিজিএমইএর হিসাব বলছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৮টি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর এলাকার কারখানাগুলো থেকে কাজ বন্ধ রেখে বেরিয়ে গেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।
গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২২৫টি। এসব কারখানায় কর্মরত ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক কাজ না করে বাইরে চলে এসেছেন।
অন্যদিকে সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।
বিজিএমইএর তথ্যে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে ১ হাজার ৮১৬টিতে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বাকি ৩১৮টি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রচলিত বেতনে সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তাঁরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়োগ ও চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শ্রমিক।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানার মালিকেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কয়েকটি কারখানার মালিকপক্ষ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
এদিকে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
বিজিবি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে সহিংসতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দিকে না যায়, সে লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মতামত দিন