Views Bangladesh Logo

দামেস্কে হাজারো মানুষের উল্লাস, দেশ ছেড়ে পালালেন প্রেসিডেন্ট আসাদ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসন শেষ হয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানান এক সেনা কর্মকর্তা। বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, দামেস্ক এখন "আসাদমুক্ত"।

রোববার সকালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করার কথা জানায় বিদ্রোহীরা। তবে এর আগেই প্রেসিডেন্ট আসাদ দামেস্ক ছেড়ে অজানা গন্তব্যে চলে যান বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিদ্রোহীরা যখন দামেস্কে ঢুকে তখন শহরটিতে কোনো সেনা মোতায়েন ছিল না।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দামেস্কের প্রধান একটি চত্বরে হাজারো মানুষ গাড়িতে করে ও পায়ে হেঁটে জড়ো হন। তারা "স্বাধীনতা" স্লোগান দিয়ে উল্লাস করেন।

বিদ্রোহীরা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা সিরিয়ার জনগণের সঙ্গে আমাদের বন্দিদের মুক্তি এবং তাদেরকে শিকলমুক্ত করার খবরে আনন্দ উদযাপন করছি। এ ছাড়া সেডনায়া কারাগারে অবিচারের যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করছি।’

সেডনায়া, যা দামেস্কের উপকণ্ঠে অবস্থিত। এটি একটি বড় সামরিক কারাগার, যেখানে সিরিয়ার সরকার হাজার হাজার বন্দিকে আটক করে রেখেছিল।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সিরিয়ার প্রধান বিরোধী দলের প্রধান হাদি আল-বাহরা জানান, "দামেস্ক এখন বাশার আল-আসাদ ছাড়া।"

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ হোমস শহর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ঘোষণা দেয় বিদ্রোহীরা। একদিনের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শহরটি দখলে নেয় তারা। এতে আসাদের ২৪ বছরের শাসন টিকে থাকার শেষ আশাটুকুও হুমকির মুখে পড়েছে।

হোমস শহরে সেনাবাহিনী পিছু হটার পর হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস করে। তারা স্লোগান দেয়, "আসাদ চলে গেছে, হোমস মুক্ত" এবং "সিরিয়া দীর্ঘজীবী হোক, বাশার আল-আসাদ নিপাত যাক"। বিদ্রোহীরা আকাশে গুলি ছুড়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং আসাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে।

এটি দামেস্কের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চল, যেখানে আসাদের আলাউইট সম্প্রদায় এবং রাশিয়ার নৌ ও বিমান ঘাঁটি রয়েছে, সেই এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

হোমস শহর দখল বিদ্রোহীদের আন্দোলনের পুনরুত্থানের একটি শক্তিশালী প্রতীক। এক সময় সিরিয়ার এই কেন্দ্রীয় শহরটি দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।

জানা গেছে, বিদ্রোহীরা হোমসের একটি কারাগার থেকে হাজারো বন্দিকে মুক্ত করেছে। অন্যদিকে এই শহরের নিরাপত্তা বাহিনী নিজেদের দলিলপত্র পুড়িয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

বিদ্রোহীদের নেতা হায়াত তাহরির আল-শামের আবু মোহাম্মদ আল-গোলানি একে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি যারা আত্মসমর্পণ করছে তাদের ক্ষতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে রোববার (৮ ডিসেম্বর) বিদ্রোহী কমান্ডার হাসান আবদুল গনি জানান, দামেস্কের আশপাশের গ্রামাঞ্চল সম্পূর্ণ মুক্ত করার অভিযান চলছে এবং বিদ্রোহী বাহিনী এখন রাজধানীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।





মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ