পার্বত্য চট্টগ্রামে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে সেনাবাহিনী
টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনজীবন স্বাভাবিক করতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সড়ক যোগাযোগ সচল করার কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া ও জরুরি ত্রাণ বিতরণের কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।
পাহাড় ধসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো থেকে মাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং টিম মাঠে কাজ করছে। পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে সেনাসদস্যরা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধারেও বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে বান্দরবান থেকে ১৪০ জন পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সাজেকে আটকা পড়া প্রায় ৬০০ পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। সাজেকে বাকি পর্যটকদের উদ্ধারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়াও বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দুর্গত পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও প্রদান করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তারা পার্বত্য অঞ্চলের এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, সড়ক মেরামত এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পুরোপুরি অব্যাহত রাখা হবে।
মতামত দিন