আর্জেন্টিনা ০ - ইংল্যান্ড ০
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা
৪৬ মিনিট | গোলের আশায় দ্বিতীয়ার্ধ শুরু
রেফারির বাঁশির সঙ্গে শুরু হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। প্রথম ৪৫ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর এখন নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। নির্ধারিত সময়ের বাকি ৪৫ মিনিট, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারেই নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ দলটি। বিরতিতে কোনো পরিবর্তন আনেননি দুই দলের কোচ। প্রথমার্ধের মতোই শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে উভয় দল। এখন অপেক্ষা, কে আগে জালের দেখা পায়।
বিরতি | রুদ্ধশ্বাসে গোলশূন্য প্রথমার্ধ, জমে উঠেছে সেমিফাইনাল
আটলান্টায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। শুরু থেকেই ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। মাঝমাঠের দখল নিয়ে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর সেই লড়াইয়ে বারবার থেমেছে খেলা। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি না হলেও শারীরিক লড়াই, শক্ত ট্যাকল এবং একের পর এক ফাউলে উত্তাপ ছড়িয়েছে ম্যাচে।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিল ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত দিয়ে রিস জেমসের নিচু ক্রস থেকেই আসে তাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণ, তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক দ্রুত এগিয়ে এসে বিপদ সামাল দেন। অন্যদিকে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ছন্দ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে তারা, ফলে নিজেদের অর্ধেই বেশিরভাগ সময় রক্ষণ সামলাতে হয় ইংল্যান্ডকে।
প্রথমার্ধে রেফারিকে বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। একের পর এক ফাউলের মাঝে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেছেন। তবে এত উত্তেজনার মধ্যেও কোনো দলই গোলের জাল খুঁজে পায়নি। ফলে বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং গোলের আশায় মাঠে ফিরবে দুই দল।
৪৫ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ৩ মিনিট
প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হওয়ার পর চতুর্থ কর্মকর্তা বোর্ড তুলে জানান, ম্যাচে যোগ করা হয়েছে অন্তত ৩ মিনিট। বিরতিতে যাওয়ার আগে এই সময়ে শেষ একবারের মতো আক্রমণে ঝাঁপাবে দুই দল, গোলের দেখা পাওয়ার আশায়। প্রথমার্ধজুড়ে ছিল তীব্র লড়াই, একাধিক ফাউল ও দুটি হলুদ কার্ড। তবে গোলশূন্য অবস্থায় থাকা ম্যাচে অতিরিক্ত এই ৩ মিনিট দুই দলের জন্যই হতে পারে বড় সুযোগ।
৪২ মিনিট | হলুদ কার্ড দেখলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ
মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে দেরিতে ও কঠোর ট্যাকল করে বসেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এতে কোনো দ্বিধা না করে তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচে আর্জেন্টিনার এটি প্রথম এবং দুই দলের মিলিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনও হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে এখন দুই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ একজন করে খেলোয়াড় বাকি সময়ে সতর্ক হয়ে খেলতে বাধ্য হবেন।
৪০ মিনিট | চাপে ইংল্যান্ড, ছন্দে ফিরছে আর্জেন্টিনা
ম্যাচে প্রথমবারের মতো নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ধৈর্য ধরে ছোট ছোট পাসে ইংল্যান্ডের ডিফেন্সের সামনে বল ঘুরিয়ে ফাঁক খুঁজতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। টানা আক্রমণের চাপে নিজেদের অর্ধে নেমে রক্ষণ সামলাতে বাধ্য হয় ইংল্যান্ড।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বলের দখল ও আক্রমণের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। যদিও এখনও গোলের দেখা মেলেনি, তবে ম্যাচের গতি ও চাপ এখন আর্জেন্টিনার দিকেই ঝুঁকে আছে।
৩৭ মিনিট | এলিয়ট অ্যান্ডারসনের হলুদ কার্ড
মাঝমাঠে প্রতিপক্ষকে থামাতে গিয়ে বাজে ফাউল করেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন। এতে দেরি না করে পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করেন রেফারি। ম্যাচের প্রথম কার্ডটি দেখলেন ইংল্যান্ডের এই ফুটবলার। প্রথমার্ধের শেষভাগে গিয়ে ম্যাচের শারীরিক লড়াই আরও বেড়ে গেছে। একের পর এক শক্ত ট্যাকল ও ফাউলে উত্তেজনা বাড়ছে মাঠে, ফলে এখন থেকে কার্ড এড়িয়ে খেলতে হবে অ্যান্ডারসনকে।
৩৩ মিনিট | রক্ষণে ফাউল আদায় করলেন মার্ক গেহি
আর্জেন্টিনার আক্রমণের চাপ সামলাতে গিয়ে রক্ষণভাগে ফাউলের শিকার হন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার মার্ক গেহি। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজিয়ে ইংল্যান্ডকে ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন, ফলে নিজেদের অর্ধ থেকে নতুন করে খেলা গড়ার সুযোগ পায় থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে এখনও গোলশূন্য রয়েছে দুই দল।
৩০ মিনিট | গর্ডনের ফাউলে ফ্রি কিক পেল আর্জেন্টিনা
ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন রক্ষণে নেমে আর্জেন্টিনার জিওভান্নি সিমিওনেকে থামাতে গিয়ে ফাউল করেন। সঙ্গে সঙ্গেই রেফারি বাঁশি বাজিয়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন, যা থেকে নতুন করে আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পায় আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের ৩০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও গোলের দেখা মেলেনি। দুই দলই মাঝমাঠে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ফাউলের কারণে বারবার খেলার গতি থেমে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সুযোগ তৈরির দিক থেকে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনাও ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে।
২৫ মিনিট | হাইড্রেশন ব্রেক, কৌশল সাজানোর সুযোগ দুই দলের
আটলান্টার তীব্র গরমের কারণে ম্যাচে নির্ধারিত সাময়িক বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন রেফারি। পানিবিরতির জন্য মাঠ ছেড়ে টাচলাইনে গেছেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। এ সময় তারা তরল পান করার পাশাপাশি কোচদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও নিচ্ছেন। বিরতির পর নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে ফিরবে দুই দল। প্রথম ২৫ মিনিটে গোলের দেখা না মিললেও সেমিফাইনালের লড়াইয়ে উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
২০ মিনিট | রিস জেমসের আক্রমণে অল্পের জন্য রক্ষা পেল আর্জেন্টিনা
ম্যাচের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণটি গড়ে তোলে ইংল্যান্ড। দ্রুত পাসের সমন্বয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু ক্রস পাঠান রিস জেমস। তবে সময়মতো সামনে এগিয়ে এসে বলটি নিরাপদে তালুবন্দি করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।
২০ মিনিট শেষে গোলশূন্য থাকলেও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনা এখনও বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, আর সেমিফাইনালের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ম্যাচের গতি ধীরে ধীরে বাড়ছে।
১৬ মিনিট | আবারও ফাউল, রেফারির বাঁশির শিকার সিমিওনে
আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড জিওভান্নি সিমিওনে আবারও ফাউল করে বসেছেন। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে সময়মতো চ্যালেঞ্জ করতে না পেরে ইংল্যান্ডের এক খেলোয়াড়কে পিছন থেকে আঘাত করেন তিনি। এতে সঙ্গে সঙ্গেই খেলা থামিয়ে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি এবং ইংল্যান্ডকে ফ্রি কিকের সুযোগ দেন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণভাগে আগ্রাসী ফুটবল খেলতে গিয়ে একাধিকবার ফাউল করেছেন সিমিওনে। ফলে রেফারির নজরও এখন তার ওপর রয়েছে। অন্যদিকে এই ফ্রি কিকের সুবাদে ইংল্যান্ড আবারও নিজেদের আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পেল।
১৩ মিনিট | উত্তপ্ত মাঠ, খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা
ম্যাচের উত্তেজনা এবার ছড়িয়ে পড়ল খেলোয়াড়দের মধ্যেও। মাঝমাঠে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দেরিতে ট্যাকল করে ফাউল করেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ফাউলের পর মাটিতে পড়ে যাওয়া অ্যান্ডারসন উঠে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজকে ধরে রাখলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মুহূর্তের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই দ্রুত এগিয়ে আসেন রেফারি। তিনি উভয় পক্ষের খেলোয়াড়দের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে সতর্ক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এই ঘটনায় কোনো হলুদ কার্ড দেখাননি তিনি, কার্ড পকেটেই রেখে দেন।
ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটেই একের পর এক শক্ত ট্যাকল, ফাউল এবং উত্তপ্ত মুহূর্ত প্রমাণ করে দিচ্ছে, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে কোনো দলই এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে রাজি নয়। মাঠে এখন প্রতিটি বলের দখল নিয়েই চলছে তীব্র লড়াই।
৯ মিনিট | টাচলাইনে তীব্র সংঘর্ষ, ফাউলের শিকার তাগলিয়াফিকো
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে শারীরিক লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার ডান প্রান্তে আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে কঠোর ট্যাকল করেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার রিস জেমস। তার চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ লেফট ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। সঙ্গে সঙ্গেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
প্রথম ১০ মিনিটের আগেই ম্যাচে একাধিক ফাউল হয়েছে, যা দুই দলের জয়ের মরিয়া মানসিকতাই ফুটিয়ে তুলছে। এখনও পর্যন্ত কোনো দলই প্রতিপক্ষকে সহজে আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ দিচ্ছে না। ফলে খেলার গতি বারবার থেমে গেলেও মাঠের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
৬ মিনিট | দেরিতে ট্যাকল, ফাউল করলেন সিমিওনে
ম্যাচের শুরুতেই একের পর এক ফাউলে থেমে থেমে এগোচ্ছে খেলা। এবার দেরিতে ট্যাকল করে রেফারির বাঁশির শিকার হন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড জিওভান্নি সিমিওনে। তার চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন। ফলে আক্রমণ গড়ার জন্য বেশ সুবিধাজনক অবস্থান থেকে ফ্রি কিক পেয়েছে ইংল্যান্ড।
দুই দলের মাঝমাঠে দখলের লড়াই ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই একাধিক কঠোর ট্যাকল দেখা গেছে, যা সেমিফাইনালের উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রাই তুলে ধরছে। ইংল্যান্ড এখন এই ফ্রি কিক থেকে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছে।
৩ মিনিট | মাঝমাঠে কঠোর ট্যাকল, এনজো ফার্নান্দেজের বিপক্ষে ফাউলের বাঁশি
ম্যাচের শুরুতেই জমে উঠেছে মাঝমাঠের লড়াই। প্রতিপক্ষের আক্রমণের গতি থামাতে মাঝমাঠে শক্ত ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। এতে সঙ্গে সঙ্গেই ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি। যদিও কোনো কার্ড দেখানো হয়নি, তবে এই ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুরু থেকেই দুই দল শারীরিক ফুটবল খেলতে প্রস্তুত। ফাইনালে ওঠার লড়াই হওয়ায় প্রতিটি বলের জন্যই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে, আর ম্যাচের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে।
ম্যাচ শুরু | ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মাঠে দুই দল
রেফারির প্রথম বাঁশির সঙ্গে আটলান্টায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মহারণ। এখন থেকেই শুরু ফাইনালের শেষ টিকিট দখলের লড়াই। নির্ধারিত ৯০ মিনিট, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকার, সবকিছুর প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছে দুই দল। গ্যালারিজুড়ে তুমুল উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফুটবলের দুই মহাশক্তির লড়াই
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দুই শক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড আবারও মুখোমুখি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে লড়বে দুই দল। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ৬০ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড। তাই ম্যাচটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন একটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার সুযোগ। দুই দলের সমর্থকদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীরাও এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন।
ফাইনালের পথে শেষ বাধা
দুই দলের জন্যই এটি 'ডু অর ডাই' ম্যাচ। এই লড়াইয়ে জয়ী দল আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। পরাজিত দলকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন প্রতিটি ফুটবলারের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি। তাই মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক, হিসেবি ও সর্বোচ্চ সতর্ক ফুটবল খেলতে দেখা যেতে পারে দুই দলকে। একটি ছোট ভুল কিংবা একটি মুহূর্তের অসাবধানতাই পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে।
ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল লড়াই শুধু মাঠের ৯০ মিনিটে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস ও আবেগ। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং পর মুহূর্তেই করা 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' আজও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।
এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড, ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ এবং পরবর্তী বছরগুলোতে দুই দলের প্রতিটি মুখোমুখি লড়াই বাড়িয়েছে উত্তেজনা। বিশ্বকাপে এই দুই দলের প্রতিটি ম্যাচই ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। আজ সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন অধ্যায়।
মেসির সামনে আরেকটি স্বপ্ন
লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আগেই। তবে এবার তার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি এখনও আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণভোমরা। গোল করা, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং কঠিন মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়া, সব ক্ষেত্রেই তিনি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা।
মেসির সঙ্গে জুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পলের মতো ফুটবলাররা দারুণ ছন্দে রয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা দলগত ফুটবল খেলেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের অপেক্ষা
১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে পারেনি ইংল্যান্ড। প্রায় ছয় দশকের অপেক্ষা এবার শেষ করতে চায় থ্রি লায়ন্সরা। বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম শক্তিশালী দল নিয়ে তারা বিশ্বকাপে এসেছে এবং পুরো আসরজুড়েই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
অধিনায়ক হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষমতা, জুড বেলিংহ্যামের সৃজনশীলতা, বুকায়ো সাকার গতি এবং ফিল ফোডেনের কারিগরি দক্ষতা ইংল্যান্ডকে ভয়ংকর এক দলে পরিণত করেছে। তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি ফাইনালে ওঠার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
দুই দলের ফর্মই দুর্দান্ত
নকআউট পর্বে দুই দলই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেষ চার নিশ্চিত করে। পুরো ম্যাচে তারা আক্রমণ ও রক্ষণ, দুই বিভাগেই ছিল কার্যকর।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল নরওয়ের বিপক্ষে। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছায় তারা। ফলে দুই দলই মানসিকভাবে দারুণ অবস্থানে রয়েছে।
কৌশলের লড়াইও হবে সমান গুরুত্বপূর্ণ
এই ম্যাচে শুধু তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, দুই কোচের কৌশলও বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আর্জেন্টিনা সাধারণত বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণ সাজাতে পছন্দ করে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ, শারীরিক শক্তি এবং উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, সেট পিস এবং গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ম্যাচটি যদি নির্ধারিত সময়ে সমতায় শেষ হয়, তাহলে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারও নির্ধারণ করতে পারে ফাইনালের দ্বিতীয় দলকে।
বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে এর আগে মোট ৫ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড পরিসংখ্যানের বিচারে বিশ্বকাপে জয়ের দিক থেকে ইংলিশরা এগিয়ে থাকলেও নকআউট বা বিদায়ঘণ্টা বাজানোর ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে আলবিসেলেস্তেরা। ৫টি ম্যাচের বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
১. ১৯৬২ বিশ্বকাপ (গ্রুপ পর্ব): বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখায় আর্জেন্টিনাকে ৩-১ ব্যবধানে অনায়াসে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড দল।
২. ১৯৬৬ বিশ্বকাপ (কোয়ার্টার ফাইনাল): এই বিতর্কিত ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল স্বাগতিক ইংলিশরা।
৩. ১৯৮৬ বিশ্বকাপ (কোয়ার্টার ফাইনাল): ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিখ্যাত ম্যাচ। দিয়াগো ম্যারাডোনার জাদুতে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জেতে। এই ম্যাচেই ম্যারাডোনা তার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে করা শতাব্দীর সেরা গোল ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ উপহার দেন।
৪. ১৯৯৮ বিশ্বকাপ (রাউন্ড অব ১৬): নাটকে ঠাসা এই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষ হয়। ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত গোল এবং দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মেরে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা আজও স্মরণীয়। পরে পেনাল্টি টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যায় আর্জেন্টিনা।
৫. ২০০২ বিশ্বকাপ (গ্রুপ পর্ব): দুই দলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ দেখা হয়েছিল জাপানের মাটিতে। ১৯৯৮ সালের লাল কার্ডের প্রতিশোধ নিয়ে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোল থেকে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।
সারা বিশ্বের চোখ আটলান্টায়
ফুটবল বিশ্বজুড়ে আজ একটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড? বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের মতো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই মহারণের জন্য। মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের সম্ভাব্য আরেকটি স্মরণীয় রাত, নাকি হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের নতুন ইতিহাস? সেই উত্তর মিলবে আজকের সেমিফাইনালেই। যে দলই জিতুক, ফুটবলপ্রেমীরা যে একটি রুদ্ধশ্বাস ও উচ্চমানের ম্যাচ উপভোগ করতে যাচ্ছেন, তা বলাই যায়।
ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল
একাদশ
১ জে. পিকফোর্ড (গোলরক্ষক), ২৪ আর. জেমস (রক্ষণ), ৫ জে. স্টোনস (রক্ষণ), ৬ এম. গেহি (রক্ষণ), ২৫ ডি. স্পেন্স (রক্ষণ), ৪ ডি. রাইস (মধ্যমাঠ), ৮ ই. অ্যান্ডারসন (মধ্যমাঠ), ১৭ এম. রজার্স (মধ্যমাঠ), ১০ জে. বেলিংহাম (মধ্যমাঠ), ১৮ এ. গর্ডন (মধ্যমাঠ), ৯ এইচ. কেইন (আক্রমণ)।
বদলি খেলোয়াড়/ বিকল্প বেঞ্চ
২ ই. কনসা, ৩ এন. ও'রাইলি, ৭ বি. সাকা, ১১ এম. র্যাশফোর্ড, ১২ টি. চালোবাহ, ১৩ ডি. হেন্ডারসন, ১৪ জে. হেন্ডারসন, ১৫ ডি. বার্ন, ১৬ কে. মেইনু, ১৯ ও. ওয়াটকিন্স, ২০ এন. মাদুয়েকে, ২১ ই. এজে, ২২ আই. টোনি, ২৩ জে. ট্র্যাফোর্ড।
কোচ: টমাস টুখেল
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল
একাদশ
২৩ ই. মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), ২৬ এন. মোলিনা (রক্ষণ), ১৩ সি. রোমেরো (রক্ষণ), ৬ লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (রক্ষণ), ৩ এন. তাগলিয়াফিকো (রক্ষণ), ১৭ জি. সিমিওনে (মধ্যমাঠ), ৫ এল. পারেদেস (মধ্যমাঠ), ২০ এ. ম্যাক আলিস্টার (মধ্যমাঠ), ২৪ ই. ফের্নান্দেজ (মধ্যমাঠ), ১০ এল. মেসি (আক্রমণ), ৯ জে. আলভারেজ (আক্রমণ)।
বদলি খেলোয়াড়/ বিকল্প বেঞ্চ
১ জে. মুসো, ২ এম. সেনেসি, ৪ জি. মন্তিয়েল, ৭ আর. দে পল, ৮ ভি. বার্কো, ১১ জি. লো সেলসো, ১২ জি. রুলি, ১৪ ই. পালাসিওস, ১৫ এন. গঞ্জালেজ, ১৬ টি. আলমাদা, ১৮ এন. পাজ, ১৯ এন. ওতামেন্দি, ২১ জে. লোপেজ, ২২ লাউতারো মার্তিনেজ, ২৫ এফ. মেদিনা।
কোচ: লিওনেল সেবাস্তিয়ান স্কালোনি
মতামত দিন