আর্জেন্টিনা ২ - মিশর ২
আর্জেন্টিনা-মিশর ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা
৭১ মিনিট | দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক, ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে দ্বিতীয় বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেকের নির্দেশ দেন রেফারি। তীব্র গতি ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের মাঝে খেলোয়াড়রা পানি পান ও কিছুটা বিশ্রামের জন্য সাইডলাইনে যান। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার জন্য এই বিরতিটি এসেছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ম্যাচে ফিরতে হলে এখনই আক্রমণের ধার বাড়াতে হবে লিওনেল মেসিদের। অন্যদিকে, দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে থাকা মিশর নিজেদের রক্ষণ আরও সংগঠিত রেখে ব্যবধান অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যেই বাকি সময়ে খেলবে।
৬৭ মিনিট | এবার আর রক্ষা নেই ! জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ
ভিএআরে একটি গোল বাতিল হলেও এবার আর তাকে থামানো গেল না। ৬৭তম মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে হানা দিয়ে গোলের দেখা পেলেন মোস্তফা জিকো। দুর্দান্ত এক আক্রমণের শেষভাগে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
মাত্র কয়েক মিনিট আগেই অফসাইডের কারণে তার একটি গোল বাতিল হয়েছিল। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে আবারও গোল করে নিজের দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিলেন মিশরের এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে, দ্বিতীয় গোল হজমের পর আর্জেন্টিনার সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। ম্যাচে ফিরতে হলে বাকি সময়ে অন্তত দুটি গোল করতে হবে লিওনেল মেসিদের, আর মিশর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন থেকে এখন আর মাত্র কয়েক ধাপ দূরে।
৫৯ মিনিট | ভিএআরে বাতিল মিশরের দ্বিতীয় গোল, বাঁচল আর্জেন্টিনা
নাটকীয় মোড় নিল ম্যাচ! ৫৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকো বল জালে জড়িয়ে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছেন বলে মনে হচ্ছিল। পুরো দল যখন উল্লাসে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই রেফারি কানে হাত দিয়ে ভিএআর পর্যালোচনার ইঙ্গিত দেন।
রিপ্লে দেখার জন্য মনিটরের কাছে যান ম্যাচ কর্মকর্তা। কয়েক মুহূর্তের উত্তেজনার পর আসে সিদ্ধান্ত—আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় অফসাইড ছিল। ফলে জিকোর গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। এতে ২-০ নয়, স্কোরলাইন থাকে আর্জেন্টিনা ০-১ মিশর।
ভিএআরের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় গোলের আনন্দ মুহূর্তেই হতাশায় পরিণত হয়েছে মিশরের শিবিরে। ম্যাচে ফেরার আশা এখনো বেঁচে থাকল লিওনেল মেসিদের।
৫৯ মিনিট | গোল!!! জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ, স্তব্ধ আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপে আরেকটি বড় চমকের পথে এগিয়ে যাচ্ছে মিশর! ৫৯তম মিনিটে দুরন্ত এক পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের নাম গোলদাতার তালিকায় লেখালেন জিকো। আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার চেষ্টায় অনেক খেলোয়াড়কে সামনে তুলেছিল। সেই সুযোগেই দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলে মিশর। নিখুঁত আক্রমণের শেষভাগে জিকো ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন।
এই গোলের পর আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে লিওনেল মেসিদের দল। ম্যাচে ফিরতে এখন আর্জেন্টিনার প্রয়োজন অন্তত দুটি গোল, আর মিশর আত্মবিশ্বাসে ভর করে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন আরও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে।
৪৬ মিনিট | দ্বিতীয়ার্ধ শুরু, বিরতিতেই পরিবর্তন আনল মিশর
বিরতি শেষে শুরু হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ। আর মাঠে নামার আগেই দলে একটি পরিবর্তন এনেছে মিশর। ইমাম আশুরকে তুলে নিয়ে তার জায়গায় মাঠে নামানো হয়েছে হামদি ফাথিকে। মাঝমাঠে আরও স্থিতিশীলতা ও রক্ষণে ভারসাম্য আনতেই এই পরিবর্তন করেছেন মিশরের কোচ। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আফ্রিকার দলটি এখন সেই লিড ধরে রাখতে চাইবে, অন্যদিকে সমতায় ফিরতে শুরু থেকেই আক্রমণ বাড়াবে আর্জেন্টিনা।
বিরতি | প্রথমার্ধ শেষ, মিশরের চমকে চাপে আর্জেন্টিনা
রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো শ্বাসরুদ্ধকর প্রথমার্ধ। শুরু থেকেই নাটকীয় ঘটনায় ভরা এই লড়াইয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে মিশর। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এনজো ফার্নান্দেজ চোট পেয়ে আর্জেন্টিনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেন। এরপর ১৪তম মিনিটে জিকোর কর্নার থেকে ইয়াসের ইব্রাহিমের দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় মিশর।
গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা এবং ১৯তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগও পায়। জুলিয়ান আলভারেজকে বক্সের ভেতরে ফাউল করায় পেনাল্টি পান আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। ফলে লিড অক্ষুণ্ন রাখে মিশর এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিরতিতে যায়।
৪৫ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ করা হলো ৫ মিনিট
নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হওয়ার পর প্রথমার্ধে আরও অন্তত ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেছেন চতুর্থ রেফারি। শুরু থেকে নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচে ইতোমধ্যেই দেখা গেছে চোট, চমকপ্রদ গোল এবং পেনাল্টি মিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ১৪তম মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। এরপর ১৯তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে প্রবেশ করছে মিশর, আর বিরতির আগে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাবে আর্জেন্টিনা।
৩৯ মিনিট | শোবেরের প্রতিরোধের সামনে থামলেন আলভারেজ
মিসরের রক্ষণ ভেদ করে বক্সের ভেতর একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে যান হুলিয়ান আলভারেজ। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে সময় নিয়ে জোরালো এক শট নেন গোলপোস্টের দিকে, লক্ষ্যও ছিল নিখুঁত। কিন্তু আজ যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। অবিশ্বাস্য প্রতিফলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই শট রুখে দেন তিনি, আর্জেন্টিনাকে আবারও ফিরিয়ে দেন খালি হাতে। প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তে এসেও ব্যবধান অক্ষুণ্ন রেখেছে মিসর, স্কোরলাইনে এখনো তারাই এগিয়ে ১-০ গোলে।
৩১ মিনিট |পোস্টে লেগে ফিরল মেসির বজ্রগতির শট
ভাগ্য যেন আজও আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই। পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারার হতাশা কাটতে না কাটতেই সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া করলেন লিওনেল মেসি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী এক শটে মিসরের গোলকিপারকে পরাস্ত করেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু গোলরক্ষককে ফাঁকি দেওয়া সেই দুর্দান্ত প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা, আর সমতায় ফেরার অপেক্ষাও দীর্ঘ হয় আলবিসেলেস্তেদের।
২৩ মিনিট | হাইড্রেশন ব্রেক, আর্জেন্টিনা ০ - মিশর ১
শুরু থেকেই নাটকীয় ঘটনায় ভরপুর ম্যাচটি। প্রথম মিনিটেই মাঝমাঠে ট্যাকল করতে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের ছন্দ ফিরে পায় দুই দল।
১৪তম মিনিটে কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক আক্রমণে চমক দেখায় মিশর। জিকোর নিখুঁত কর্নার থেকে ইয়াসের ইব্রাহিম শক্তিশালী হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। জুলিয়ান আলভারেজকে বক্সের ভেতরে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তার পেনাল্টি রুখে দিয়ে মিশরকে লিড ধরে রাখতে সাহায্য করেন গোলরক্ষক।
২৩তম মিনিটে হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত ম্যাচে নাটকীয়তার কোনো কমতি ছিল না। একদিকে মিশর দুর্দান্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে এগিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজছে আর্জেন্টিনা।
১৯ মিনিট | পেনাল্টি মিস মেসির, হতাশ আর্জেন্টিনা
ম্যাচের ১৯তম মিনিটে সমতায় ফেরার সোনালি সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। জুলিয়ান আলভারেজকে বক্সের ভেতরে ফাউল করায় কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিকে দাঁড়ান দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে সবার বিস্ময় বাড়িয়ে দিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। মেসির শট রুখে দেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক, ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে মিশর। এই পেনাল্টি মিসে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা, আর নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে মিশরের খেলোয়াড়রা।
১৪ মিনিট | গোল!!! ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে গেল মিশর
ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই বড় চমক দেখাল মিশর। কর্নার থেকে দারুণ একটি আক্রমণ গড়ে তুলে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে হতবাক করে দেয় তারা। জিকোর নিখুঁত বাঁকানো কর্নার বক্সের ভেতরে ভেসে এলে সবার ওপরে উঠে অসাধারণ শক্তিশালী হেড করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। তার হেডে বল জড়িয়ে যায় জালে, আর কোনো সুযোগই পাননি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর, আর ম্যাচে বড় চমকের আভাস দেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
প্রথম মিনিট | শুরুতেই ধাক্কা, চোটে কাতর ফার্নান্দেজ
ম্যাচ শুরুর মাত্র অর্ধ মিনিটের মাথায় বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে ট্যাকল করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাঁটুতে জোরালো সংঘর্ষে পড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। সঙ্গে সঙ্গেই যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি এবং নিজের পা চেপে ধরে চিকিৎসার অপেক্ষা করেন। মাঠে দ্রুত ছুটে আসে মেডিকেল দল।
আর্জেন্টিনা-মিশর: আটলান্টায় আজ ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্রস্তুত ফুটবলবিশ্ব
বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে নকআউট পর্বে ভুলের কোনো সুযোগ নেই; একটি হারই শেষ করে দিতে পারে আলবিসেলেস্তেদের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন। সেই কঠিন পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় (স্থানীয় সময় দুপুর ১টা) শেষ ষোলোর হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল।
অন্যদিকে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২৯ নম্বরে থাকা মিশরও এই ম্যাচে নামছে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে এসেছে আফ্রিকান এই দলটি। বিশেষ করে নকআউট পর্বে চাপের মুখে দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আসা মিশরের রক্ষণভাগ যথেষ্ট সংগঠিত।
আর আক্রমণে মোহামেদ সালাহর মতো একজন বিশ্বমানের ফুটবলার থাকা মানেই যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া। ফলে ফেভারিটের তকমা নিয়ে মাঠে নামলেও, মিশরের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নেওয়াটা লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের জন্য মোটেও সহজ কাজ হবে না।
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা একাদশে তিন পরিবর্তন
কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ের আগে শুরুর একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর শেষ ষোলো নিশ্চিত করা আর্জেন্টিনা এবার আরও ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে মাঠে নামছে। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ- তিন বিভাগেই পরিবর্তন এনে দলকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন স্কালোনি।
রক্ষণভাগে ফিরছেন অভিজ্ঞ লেফটব্যাক নিকোলাস তালিয়াফিকো। ইনজুরির কারণে আগের কয়েকটি ম্যাচে তার জায়গায় খেলেছিলেন ফাকুন্দো মেদিনা। তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ দিকে শারীরিক সমস্যায় পড়ায় এবার আবারও প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন তালিয়াফিকো। আক্রমণভাগেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। টুর্নামেন্টের প্রথম চার ম্যাচে শুরু থেকেই খেলেছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করলেও শেষ ষোলোর আগের ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার।
ফলে তার জায়গায় সুযোগ পাচ্ছেন হুলিয়ান আলভারেজ। বাম গোড়ালির ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুর কয়েকটি ম্যাচে খেলতে না পারলেও এখন পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরেছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনটি এসেছে মাঝমাঠে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। সেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দারুণ ছাপ রেখেছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এবার প্রথম একাদশে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
পারেদেস দলে ফেরায় মিডফিল্ডের বিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। তিনি ডিপ-লাইং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলবেন। এতদিন এই দায়িত্ব পালন করা আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবার আরও সামনে উঠে এনজো ফার্নান্দেজের সঙ্গে আক্রমণভাগে সংযোগ তৈরির ভূমিকা পালন করবেন। এই পরিবর্তনের কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন থিয়াগো আলমাদা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যের ওপরই জোর দিয়েছেন স্কালোনি। লিওনেল মেসিকে ঘিরে আক্রমণ সাজানোর পাশাপাশি মাঝমাঠে পারেদেসের উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৮ বছর পর দেখা এবং মেসি-সালাহ ঐতিহাসিক দ্বৈরথ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম একে অপরের বিপক্ষে খেলতে নামছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। এর আগে দীর্ঘ ১৮ বছর আগে, ২০০৮ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে দুই দলের একমাত্র দেখাটি হয়েছিল, যেখানে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলে আরও বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহর সম্ভাব্য প্রথম আন্তর্জাতিক মুখোমুখি হওয়ার কারণে। ক্লাব ফুটবলে দুজনের পথ একাধিকবার মিললেও, নিজ নিজ জাতীয় দলের জার্সিতে কখনো একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামেননি এই দুই বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের আগে কিছু জানা-অজানা তথ্য:
দুই দলের আগের দুই দেখাতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। প্রথম দেখা হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, ১৯২৮ অলিম্পিকের সেমিফাইনালে মিসরকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। আর শেষ দেখায়, ২০০৮ সালের মার্চে কায়রোতে এক প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলোর বিপক্ষে টানা ৮ ম্যাচ জিতেছে লা আলবিসেলেস্তেরা। শুধু তা-ই নয়, এই ৮ ম্যাচের শেষ ৬টিতেই প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকান কোনো দলের বিপক্ষে মিসর খেলেছে কেবল একটি ম্যাচ। ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ (ফরমেশন: ৪-৪-২): ২৩ ই. মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), ২৬ এন. মলিনা (ডিফেন্ডার), ১৩ সি. রোমেরো (ডিফেন্ডার), ৬ লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ডিফেন্ডার), ৩ এন. তালিয়াফিকো (ডিফেন্ডার), ২৪ ই. ফের্নান্দেস (মিডফিল্ডার), ৫ এল. পারেদেস (মিডফিল্ডার), ২০ এ. ম্যাক অ্যালিস্টার (মিডফিল্ডার), ৭ আর. দে পল (মিডফিল্ডার), ৯ হু. আলভারেজ (ফরোয়ার্ড), ১০ এল. মেসি (ফরোয়ার্ড)।
বিকল্প খেলোয়ার/ বদলি বেঞ্চ: ১ জে. মুসো, ২ এম. সেনেসি, ৪ জি. মন্তিয়েল, ৮ ভি. বার্কো, ১১ জি. লো সেলসো, ১২ জি. রুলি, ১৪ ই. পালাসিওস, ১৫ এন. গনসালেস, ১৬ টি. আলমাদা, ১৭ জি. সিমেওনে, ১৮ এন. পাজ, ১৯ এন. ওতামেন্দি, ২১ হু. লোপেজ, ২২ লাউতারো মার্তিনেজ, ২৫ এফ. মেদিনা।
কোচ: লিওনেল সেবাস্তিয়ান স্কালোনি
মিশর জাতীয় ফুটবল দল
মিশরের সম্ভাব্য একাদশ (ফরমেশন: ৪-৩-৩): ২৩ মোস্তফা শোবেইর (গোলরক্ষক), ৩ মোহামেদ হানি (ডিফেন্ডার), ২ ইয়াসের ইব্রাহিম (ডিফেন্ডার), ৫ রামি রাবিয়া (ডিফেন্ডার), ১৫ করিম হাফেজ (ডিফেন্ডার), ১২ হাইসেম হাসান (মিডফিল্ডার), ১৭ মোহানাদ লাশিন (মিডফিল্ডার), ১৯ মারওয়ান আত্তিয়া (মিডফিল্ডার), ৮ এমাম আশোউর (মিডফিল্ডার), ১১ মোস্তফা জিকো (ফরোয়ার্ড), ১০ মোহামেদ সালাহ (ফরোয়ার্ড)
বিকল্প খেলোয়ার/ বদলি বেঞ্চ: ১ মোহামেদ এল শেনাউয়ি, ৪ হোসাম আবদেলমাগিদ, ৭ ত্রেজেগে, ৯ হামজা আবদেলকরিম, ১৪ হামদি ফাতহি, ১৬ এল মাহদি সোলিমান, ১৮ নাবিল ইমাদ দুংগা, ২০ ইব্রাহিম আদেল, ২১ মাহমুদ সাবের, ২২ ওমর মারমুশ, ২৪ তারেক আলা, ২৫ জিজো, ২৬ মোহামেদ আলা
কোচ: হোসাম হাসান হাসানাইন হুসেইন
মতামত দিন