জর্ডানের স্বপ্ন ভেঙে গ্রুপসেরার সিংহাসনে আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করল দাপটের সঙ্গেই। জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে গোল করে নতুন ইতিহাসও গড়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করে তিনি গড়েছেন অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় লিওনেল স্কালোনির দল। জর্ডান নিজেদের অর্ধে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকলেও আর্জেন্টিনার দ্রুত পাসিং ও আক্রমণের গতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। আর্জেন্টিনার প্রথম গোল আসে ১৯তম মিনিটে। জর্ডানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে জিওভানি লো সেলসো দুর্দান্ত ফিনিশে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোলের পরও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে আলবিসেলেস্তেরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জুলিয়ান আলভারেজকে বক্সের ভেতরে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নির্ভুল শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাওতারো মার্তিনেজ। এবারের বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর প্রথম গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াই ছাড়েনি জর্ডান। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে মুসা আল-তামারি দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। এই গোলের পর কিছু সময় আক্রমণে গতি বাড়িয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপও সৃষ্টি করে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।
তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন লিওনেল মেসি। ৬৮তম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। চেনা ভঙ্গিতে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন অধিনায়ক। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নজির গড়েন তিনি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক।
পুরো ম্যাচে বলের দখল, পাসের সফলতা এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, লো সেলসো ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সমন্বয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে তারা। অন্যদিকে জর্ডান রক্ষণভাগে চাপ সামলেও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, বিশেষ করে আল-তামারির গোলটি তাদের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। তবে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতা ও আক্রমণের ধার শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
এই জয়ে তিন ম্যাচ শেষে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে হার দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ জর্ডান।
মতামত দিন