অপূর্ব বাংলাদেশের উত্তম কুমার: উত্তম কুমারের ভাতিজি
মহানায়ক উত্তম কুমারের ভাতিজি ও অভিনেতা তরুণ কুমারের মেয়ে ঝিমলি ব্যানার্জি বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’ বলে অভিহিত করেছেন। কিছুদিন আগে ফেসবুকে অপূর্বর একটি পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘তুমি অনেক দূর যাবে। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক। তুমি বাংলাদেশের উত্তম কুমার।’
সেই মন্তব্যের সূত্র ধরেই উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের বিকেলে, ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন ঝিমলি ব্যানার্জি। অপূর্বকে কেন ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’ বলেছেন—জানতে চাইতেই কথার শুরু থেকে একের পর এক অপূর্বর অভিনীত নাটকের নাম, চরিত্র ও সংলাপ তুলে ধরতে থাকেন তিনি।
অপূর্বর অভিনয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তার বিভিন্ন চরিত্র, সংলাপ এবং অভিনয়ের ধরন নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথাও জানান ঝিমলি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশের এই অভিনেতার কাজ তিনি শুধু দেখেননি, বরং বেশ মনোযোগ দিয়ে অনুসরণও করেছেন।
ঝিমলি ব্যানার্জি বলেন, ‘উত্তম কুমার আমার জ্যাঠা, তাঁর ভাই অভিনেতা তরুণ কুমারের মেয়ে আমি। যে মন্তব্যটা দেখেছেন, সেটা আমিই করেছিলাম। আমার বয়স ৬০-এর বেশি। একটুও কম কিছু লিখিনি। বরং অপূর্বর কাজ দেখার পর মনে হচ্ছে, কম লিখেছি।’
তিনি বলেন, ‘অপূর্বকে আমি ছোট ভাইয়ের মতো মনে করি। গত কয়েক মাস ধরে ওর সব কাজ দেখছি। এমনও হয়, রিপিট করে দেখি। তখন থেকেই ওর কাজের প্রেমে পড়ে যাই। আমি ওর সমস্তটা খুঁটিয়ে দেখেছি। ওর গলায় একটা দাগ আছে, সেটাও দেখেছি। প্রতিটি চরিত্র সে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। বেশ কিছুদিন ধরে অপূর্বর সব সাক্ষাৎকার দেখে বুঝেছি, ওর সোল খুব ভালো, যেটা উত্তম কুমারের মধ্যেও ছিল।’
অপূর্বর অভিনয়ের সঙ্গে উত্তম কুমারের কিছু মিলের কথাও তুলে ধরেন ঝিমলি। তাঁর ভাষায়, ‘অপূর্বর চোখের ভাষাতেও মিল আছে। উত্তম কুমার শুধু নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী ছিলেন না, তাঁর সঙ্গে যারা কাজ করতেন, তাঁদের প্রতিও কেয়ারিং ছিলেন। অপূর্বর সঙ্গে যে হিরোইন কাজ করছে, সেও সাক্ষাৎকারে বলেছে, অপূর্ব থাকলে অর্ধেক চিন্তা দূর হয়ে যায়।’
অপূর্বর ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী ঝিমলি। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, অপূর্ব অনেক দূর যাবে। ও ভালো গাইতেও পারে। সাক্ষাৎকারে বলেছে, গান গাইতে গিয়ে সে নার্ভাস ছিল। আমি বললাম, ও জয় করে এসেছে। আরও বলতে চাই, ও যেন গান না ছাড়ে। বয়স হলে হয়তো নাচতে পারবে না, কিন্তু গাইতে পারবে।’
অপূর্বর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার ইচ্ছার কথাও জানান ঝিমলি। তিনি বলেন, ‘আমি অপূর্বর সঙ্গে সামনাসামনি একবার দেখা করতে চাই। ওর সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমার কথাগুলো যদি ও শোনে, তাহলে হয়তো বলবে—কোথায় মহানায়ক আর কোথায় আমি! কিন্তু আমি একজন শিল্পীর মেয়ে। আমার জ্যাঠা উত্তম কুমার, আমার মাও অভিনয় করতেন, বাবা তরুণ কুমার। আমার রক্তে শিল্প বইছে। আমার সন্তান সৌরভ চ্যাটার্জি, সে সিরিয়ালের কাজ করছে। আমি ভুল কিছু বলিনি। উত্তম কুমারের বাড়িতে বসেই কথাগুলো বলছি।’
এদিকে উত্তম কুমারের পরিবারের একজন সদস্য ও তাঁর ভাতিজির কাছ থেকে ‘বাংলাদেশের উত্তম কুমার’ মন্তব্য শুনে চমকে ওঠেন অপূর্ব।
বিনয়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ নীরব থেকে অপূর্ব বলেন, ‘এই বিষয়ে মন্তব্য করার যোগ্যতা আমার নেই। এমন মন্তব্য আমার কাছে কল্পনাতীত মনে হয়। যিনি মন্তব্য করেছেন, হয়তো ভালোবেসে এবং স্নেহ করে বলেছেন। আমি মনে করি, এই বিষয় নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আমার কোনো দিনই হবে না।’
মতামত দিন