চীনের মেমোরি চিপ পরীক্ষা করছে অ্যাপল, কমতে পারে উৎপাদন ব্যয়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের চাহিদা বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিপের দামও। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থায় বিকল্প উৎস তৈরি করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় মেমোরি চিপ নির্মাতা চ্যাংজিন মেমোরি টেকনোলজিসের তৈরি চিপ পরীক্ষা করছে অ্যাপল। ভবিষ্যতে চীনের বাজারে বিক্রি হওয়া আইফোন ও ম্যাকবুকে এসব চিপ ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
তবে অ্যাপল ও চ্যাংজিন মেমোরি টেকনোলজিসের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত সরবরাহ চুক্তি হয়নি। প্রাথমিকভাবে চীনের বাজারের জন্য তৈরি কিছু আইফোন ও ম্যাকবুক মডেলে চীনা প্রতিষ্ঠানের মেমোরি চিপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বৈশ্বিক বাজারে চিপের সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজার অংশ হিসেবেই অ্যাপলের এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
এআইনির্ভর ডেটা সেন্টার ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং অবকাঠামোয় বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রনের মতো বড় নির্মাতাদের ওপর সরবরাহের চাপ বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের ভারসাম্য না থাকায় মেমোরি চিপের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ে।
এই পরিস্থিতিতে চ্যাংজিন মেমোরি টেকনোলজিসকে বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে অ্যাপলের জন্য সরবরাহব্যবস্থায় কিছুটা নমনীয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক দামে চিপ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর চাপও কমানো যেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আইফোন বা ম্যাকবুকের দাম সরাসরি কমবে। বরং চিপের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে পণ্যের দাম বাড়ানোর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা সামাল দেওয়াই হতে পারে এই উদ্যোগের বড় উদ্দেশ্য।
চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চিপ সংগ্রহের ক্ষেত্রে অবশ্য মার্কিন রফতানি নিয়ন্ত্রণ নীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব বিধিনিষেধের কারণে অ্যাপল চ্যাংজিন মেমোরি টেকনোলজিসকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য সরবরাহ বা কাস্টমাইজড চিপ তৈরির অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারে। ফলে সম্ভাব্য সহযোগিতাটি বাস্তবে কতটা এগোবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত ও নীতিগত বিভিন্ন শর্তের ওপর।
এরই মধ্যে এইচপি ও এসারের মতো কয়েকটি ল্যাপটপ নির্মাতা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাজারজাত করা কিছু পণ্যে চ্যাংজিনের মেমোরি চিপ ব্যবহার করছে। অ্যাপলও একই পথে এগোলে বৈশ্বিক মেমোরি চিপ সরবরাহব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে। একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি খাতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও অ্যাপলের সরবরাহ কৌশলে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন