শিশু নাঈমকে ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার রায় বহাল
ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে সাড়ে তিন বছর আগে হাত হারানো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ১৩ বছর বয়সী শিশু নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। আদালতে শিশুর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ওমর ফারুক।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সামর্থ্য থাকার পরও ওই কারখানা মালিক নানা ছলচাতুরিতে নাঈমকে পাওনা থেকে বঞ্চিত করে আদালতের রায় অমান্য করে চলেছেন।
“এই আপিল ‘ডিসমিসের’ পর আশা করি, ইয়াকুব আর ছলচাতুরি করবে না, মানবিক হয়ে তার পাওনা পরিশোধ করবে।
২০২০ সালের ১ নভেম্বর ‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক।
পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ দিকে নাঈম হাসানের বয়স ছিল ১০ বছর; তখন সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে তার বাড়ি। বাবা আনোয়ার হোসেনের জুতার ব্যবসা ছিল।
করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর সময়ে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়লে নাঈমকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ওই ওয়ার্কশপে কাজে দেন। সেখানে কাজ করতে গিয়েই একদিন তার ডান হাত মেশিনে ঢুকে যায়; পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে হাতটির নিচের অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে