কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি সাংবাদিক ফ্রন্টের
কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি, তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হয়রানি, গ্রেপ্তার ও পেশাগত স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে এসব ঘটনার প্রতিকার দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামাল।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও চাপ, হয়রানি ও সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ সময়ে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে এবং অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সাংবাদিক হত্যার ঘটনাতেও তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে মদদের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া দমন-পীড়নের ধারা বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে। তাঁদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অথচ অনেকের জামিন আবেদন বারবার নাকচ হচ্ছে।
মানববন্ধনে সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, ফারজানা রূপা, শ্যামল দত্ত ও মোজাম্মেল বাবুর কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্দী থাকায় তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং পরিবারের সদস্যদের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনার বিষয়টিও তুলে ধরেন তাঁরা। অভিযোগগুলোর ভিত্তি হিসেবে সাংবাদিকতা ও পেশাগত কর্মকাণ্ডকে বিবেচনায় নেওয়া হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।
সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, সাংবাদিক গাজী তুষার আহমেদ ও শেখ ইমন আহমেদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা সাংবাদিক সমাজে ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শেখ জামাল আরও দাবি করেন, সারা দেশে ৫২ জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের কয়েকজন এখনো কারাগারে রয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ১১৮ জন সাংবাদিক শারীরিক হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া ১৫ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন এবং জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ ৪৪৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি, সম্পাদকীয় পদে পরিবর্তন, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, প্রেসক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল, সাংবাদিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাংক হিসাব বন্ধের মতো পদক্ষেপের কারণে অনেকে পেশাগত ও ব্যক্তিগত সংকটে পড়েছেন। এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সাংবাদিকদের স্বাভাবিক পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ইমনসহ সদস্য সাজেদা হক, একেএম ওবায়দুর রহমান, রাগেবুল রেজা, ওয়ারেছুন্নবী খন্দকার, নাঈমুর রহমান স্বপন, হাসনাত শাহিন, রহিমা খানম, শফিউর রহমান, মাজেদুল ইসলাম পাপেল, সুজিত সজীব ও রমজান আলী উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন