আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিল বৈষম্যবিরোধীরা, ছাত্রদলের থানা ঘেরাও
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী আকরামকে আটকের পরও ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে রাজধানীর কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই আটক করা হয়েছিল তাকে।
এ ঘটনায় পুরান ঢাকার থানা ও ক্যাম্পাস এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জবি ছাত্রদলের অভিযোগ, সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা কেন্দ্রের রেজিস্ট্রার টুটুল ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আকরামকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ পরিচয়ে থানায় গিয়ে আকরামকে ছাড়িয়ে আনেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে থানা ঘেরাও করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, জবি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত আকরাম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেই তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়, যা পক্ষপাতমূলক আচরণ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে দুজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা আকরামকে নির্দোষ দাবি করলে আকরামকে ছেড়ে দেয়া হয়। ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে’।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল আহমেদ ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিগত শাসনামলে ছাত্রলীগের পরিচয়ে যারাই অপকর্ম করেছেন, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ফ্যাঁসিবাদ বিরোধী আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছি। আর সে সময়গুলোতে ছাত্রলীগই সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর নানাভাবে জুলুম করেছে। আমরা চাই, আকরামকেও আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা হোক’।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা জানান, ‘জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন আকরাম। এক সময় তিনি ছাত্রলীগে যুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ নেই৷ তাই, আমাদের অনুরোধে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে