Views Bangladesh Logo

ইউরোপে পালাতে গিয়ে ভারতে আটক বৈষম্যবিরোধী সেই নেতা মাহদী হাসান

‘থানা জ্বালিয়েছি, এসআইকে পুড়িয়েছি’— এই মন্তব্যে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলা হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান এবার আটক হলেন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিল্লি বিমানবন্দর দিয়ে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র এসব বিষয় নিশ্চিত করেছে।

দিল্লিতে আসা ও গোপন পরিকল্পনা
কয়েকদিন আগে মাহদী হাসান (আহমদ রেজা হাসান মাহদী) বাংলাদেশ থেকে নয়াদিল্লিতে যান। সেখানে পাহাড়গঞ্জ এলাকার উডল্যান্ড নামে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান নেন তিনি। দিল্লিতে যাওয়ার পেছনে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউরোপে পাড়ি দেওয়া। এই লক্ষ্যে ভিএফএস গ্লোবাল নামে একটি ভিসা কনসালট্যান্সির মাধ্যমে নিজের চেয়ে আট বছরের বড় তুহিন আখতার নামে প্রবাসী এক বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে কন্টাক্ট ম্যারেজ করে ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।


যেভাবে ধরা পড়লেন
পরিকল্পনামাফিক ইউরোপের ভিসা নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে চলে যেতে চাইলে দিল্লি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে থামিয়ে দেয়। পরে তাকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়।

মাহদী হাসানকে ছেড়ে দেওয়ার পর ফেসবুক লাইভে আসেন তিনি। এসময় তিনি অসহযোগিতার অভিযোগ করে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা জানান।

এর আগের দিন মঙ্গলবার ভিএফএস সেন্টারে ভিসা-সংক্রান্ত কাজে গেলে মাহদীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে 'জুলাইয়ের আত্মস্বীকৃত খুনি' আখ্যা দেওয়া হয়।

কেন আলোচনায় এলেন মাহদী
মাহদী হাসান প্রথমবার ব্যাপক আলোচনায় আসেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর। ওই ভিডিওতে ওসির কক্ষে প্রবেশ করে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হবিগঞ্জে ১০ জন নিহত হওয়ার কথাও তিনি সেই ভিডিওতে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্য দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করে।

গ্রেপ্তার ও মুক্তির ঘটনাপ্রবাহ
সমালোচনার মুখে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সেদিন সন্ধ্যা থেকেই তার মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঢাকায়ও কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং মুক্তি দিতে আলটিমেটাম জারি করে। চাপের মুখে পরদিন ৪ জানুয়ারিই জামিনে মুক্তি পান মাহদী।

মুক্তির পরও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, জামিন নয়, মাহদীকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকলকে ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মকাণ্ডের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দাবিও তোলা হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ