আরেক তরুণকেও ডেকে বাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুহিনের বিরুদ্ধে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিনের বিরুদ্ধে এর আগেও এক কিশোরকে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তুহিনের আটকের খবর প্রকাশের পর আসাদুল্লাহ সোহাগ নামে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন।
আসাদুল্লাহ সোহাগের দাবি, তুহিন তাকে একইভাবে ডেকে নিয়ে কৌশলে তার মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করতে গেলেও তার অভিযোগ মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি। পরে শুধু সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, তুহিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একজনের ছত্রচ্ছায়া থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আসাদুল্লাহ বলেন, ছোট অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। তুহিনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সমর্থনে তিনি একটি অভিযোগপত্রের ছবি, চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলের ছবি, তুহিনের ছবি এবং একটি ফটোকার্ডও পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করেন।
এদিকে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জেলা পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ তথ্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কারো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। আজ রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জেলা পুলিশ। সেখানে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি ও উদ্ধার হওয়া আলামত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
গত শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের কাছে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে ১৯ বছর বয়সী তুহিনকে আটক করা হয়। পরে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আলামতও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মতামত দিন