Views Bangladesh Logo

বগুড়া কারাগারে আরও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

গুড়ায় কারা হেফাজতে থাকা আরও এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত জেলে থাকা আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতার মৃত্যু হলো। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। প্রত্যেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা করা হয়। দীর্ঘ সময় ফেলে রাখার পর তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না। জেল থেকে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতার লাশ হয়ে ফেরার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকালে কারা হেফাজতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হক মারা যান। তিনি গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন এমদাদুল। পরে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য পাঠানো হয়। হাসপাতালে এদিন সকাল ৭ টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে জানান কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এমদাদুল হক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এমদাদুল কারাগারে ছিলেন।

এর আগে বগুড়ায় কারা হেফাজতে মৃত চার নেতা হলেন- বগুড়ার গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহাদাৎ আলম ঝুনু, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ এবং শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

গত বছরের ৯ ডিসেম্বর কারা হেফাজতে থাকা আব্দুল মতিন মিঠু, ২৬ নভেম্বর শাহাদাৎ আলম ঝুনু, ২৫ নভেম্বর আব্দুল লতিফ ও ১১ নভেম্বর মারা যান শহিদুল ইসলাম। তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।

আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, জেলের প্রতিটি মৃত্যুকে অস্বাভাবিক মনে করছেন তারা। সেখানে কী হচ্ছে তা তাদের জানা নেই। তারা শুধু লাশ পাচ্ছেন।

সম্প্রতি আদালতের জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়া যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন কর্মী জানান, জেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না। অনেক সময় পর তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর কারা হেফাজতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাৎ আলম ঝুনুর মৃত্যু হয়।

সেই ঘটনার বর্ণনায় যুবলীগের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই সময় তিনি বগুড়া কারাগারে ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতা ঝুনু সকালে গোসল করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি (ঝুনু) মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। এরপরও তাকে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারেই ফেলে রাখা হয়। এমনকি তাকে কারা হাসপাতালেও নেয়া হয়নি। কয়েক ঘণ্টা পর ঝুনুকে বাহিরের হাসপাতালে নেয়া হয়।

কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে বাহিরের হাসপাতালে নিতে হয়। একজন রোগীকে বাহিরের হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে।

তিনি আর জানান, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরণের অবহেলা নেই। অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ