Views Bangladesh Logo

সার-কীটনাশক নিয়ে দুশ্চিন্তায় লালমনিরহাটের আমন চাষিরা

অনুকূল আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন লালমনিরহাটের কৃষকরা। নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমিতে বাড়তি সেচের প্রয়োজন হয়নি। ফলে উৎপাদন খরচও কিছুটা কমেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানের গাছও বেড়ে উঠেছে বেশ সতেজভাবে। তবে ভালো ফলনের সম্ভাবনার মধ্যেই সময়মতো সার পাওয়া এবং মানসম্মত কীটনাশকের সরবরাহ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে সার ও কীটনাশকের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে নিম্নমানের কীটনাশক বিক্রি বন্ধে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন। জমিতে প্রয়োজনের সময় সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার করতে না পারলে ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

জেলার বিভিন্ন এলাকার আমন খেত ঘুরে দেখা গেছে, ধানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার প্রয়োগ করছেন। আবার কেউ পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছেন।

আমন চাষি সালাম মিয়া বলেন, এবার নিয়মিত বৃষ্টির কারণে জমিতে বাড়তি সেচ দিতে হয়নি। এতে কৃষকের খরচ কমেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ধানের গাছও ভালো অবস্থায় রয়েছে।

কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, এ সময়ে আমন ধানে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকাসহ বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আক্রমণ হতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা নিতে না পারলে ফলনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও কার্যকর কীটনাশক সহজলভ্য থাকা জরুরি।

কৃষকদের অভিযোগ, অনেক সময় বাজারে নিম্নমানের কীটনাশক পাওয়া যায়। না বুঝে এসব কীটনাশক ব্যবহারের পরও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। এতে একদিকে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে কৃষকের বাড়তি অর্থ খরচ হয়। এ কারণে মানসম্মত কীটনাশক নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার খারুয়ার বাজার চর এলাকার কৃষক সুলতান বলেন, ভালো ফলনের জন্য ধানে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে হয়। পোকামাকড় দেখা দিলে কার্যকর কীটনাশক ব্যবহার করাও জরুরি। মানসম্মত কীটনাশক না পাওয়া গেলে ফলন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক রাসেল মিয়া বলেন, এবারকার আবহাওয়া ধানের জন্য বেশ ভালো। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো মানের কীটনাশক পাওয়া গেলে আমনের ফলন ভালো হওয়ার আশা রয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. মতিউল আলম বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। বাজারে নিম্নমানের কীটনাশক যাতে ঢুকতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয়।

তিনি বলেন, মাঝে মাঝে খুচরা বিক্রেতাদের দোকান থেকে কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা হয়। কোনো পণ্য মানসম্মত না হলে সেটি বাজারজাত বন্ধ করা হয়।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে ৮৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় চাষ কিছুটা কম হলেও বর্তমানে কৃষকেরা অন্যান্য ফসল ও সবজি চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ