Views Bangladesh Logo

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু আইভরি কোস্টের

গোলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, একের পর এক আক্রমণ, পোস্টে লেগে ফিরে আসা শট আর নাটকীয় সব মুহূর্তের পর শেষ হাসি হাসল আইভরি কোস্ট। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের ৯০তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে নায়ক বনে যান আমাদ দিয়ালো। তার একমাত্র গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

সোমবার (১৫ জুন) ফিলাডেলফিয়ার জমজমাট পরিবেশে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইকুয়েডর। বলের দখল এবং আক্রমণ গঠনে প্রথমার্ধে বেশ আধিপত্য দেখায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তবে সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি তারা।

ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এনার ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু ভালো অবস্থানে থেকেও লক্ষ্যে শট রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর জন ইয়েবোহ ও অ্যালান মিন্দা দুটি দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে ইয়েবোহর শট ক্রসবারে এবং মিন্দার প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে হতাশ হতে হয় ইকুয়েডর সমর্থকদের।

অন্যদিকে আইভরি কোস্টও পাল্টা আক্রমণে কম বিপজ্জনক ছিল না। তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দের গতিময় ফুটবল ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলে। ডান প্রান্ত দিয়ে তার তৈরি করা কয়েকটি আক্রমণ প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেললেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল আসছিল না। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড নিকোলা পেপেও একাধিক সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে আইভরি কোস্ট। মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে তারা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। দিয়োমান্দে, পেপে ও এলি ওয়াহির সমন্বয়ে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হতে থাকে। এক পর্যায়ে ওয়াহির নেওয়া শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে আবারও গোলবঞ্চিত হয় আফ্রিকান দলটি।

তবে ইকুয়েডরও হাল ছাড়েনি। গনসালো প্লাতা ও এনার ভ্যালেন্সিয়ার বোঝাপড়া থেকে তৈরি হওয়া কয়েকটি আক্রমণ আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। দূরপাল্লার একটি দুর্দান্ত শটে প্লাতা গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেললেও শেষ পর্যন্ত গোল আদায় করতে পারেননি।

ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়াচ্ছিল, ততই মনে হচ্ছিল দুই দলই হয়তো পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়বে। কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা। নির্ধারিত সময়ের ঠিক শেষ মিনিটে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটান আমাদ দিয়ালো।

ডান প্রান্ত দিয়ে উইলফ্রিড সিঙ্গোর দুর্দান্ত দৌড়ের পর আসা নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের কিনারায় দাঁড়িয়ে চমৎকার এক শটে জাল খুঁজে নেন দিয়ালো। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে করা সেই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আইভরি কোস্ট শিবির।

শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকার দলটি। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে তিন পয়েন্ট অর্জন করে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দারুণ সূচনা করল আইভরি কোস্ট। অন্যদিকে সুযোগ নষ্টের মাশুল দিয়ে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইকুয়েডরকে।

এই জয়ের ফলে গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল আইভরি কোস্ট। একই সঙ্গে শেষ মুহূর্তের নায়ক আমাদ দিয়ালো বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের উপস্থিতিও জোরালোভাবে জানান দিলেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ