নরওয়ের বিপক্ষে জোরালো প্রত্যাঘাতে সমতায় আইভরি কোস্ট
ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে আইভরি কোস্ট নরওয়ের বিপক্ষে সমতায় ফিরেছে। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি নরওয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে গোল শোধ করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। ৩৯তম মিনিটে অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে আন্তোনিও নুসা বক্সের বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে জড়ান। নুসার দৃষ্টিনন্দন ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা।
বিরতির আগে বলের দখল, পাসিং এবং আক্রমণ তৈরিতে নরওয়েই ছিল এগিয়ে। হালান্ডকে কঠোর মার্কিংয়ে রাখলেও নুসা, সোরলোথ ও ওডেগার্ডের সমন্বয়ে একাধিক আক্রমণ গড়ে তোলে ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট কয়েকটি কর্নার পেলেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। গোল হজমের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এমার্স ফায়ের দল। ফ্রাঙ্ক কেসি, ইব্রাহিম সাঙ্গারে এবং ইয়ান দিয়োমান্দের নেতৃত্বে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে নরওয়ের রক্ষণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে তারা। সেই চাপের ফল হিসেবেই আসে সমতার গোল, আর ম্যাচে ফিরে আসে নতুন উত্তেজনা।
বেঞ্চ থেকে নেমেই জাদুকরী এক মুহূর্ত উপহার দিলেন আমাদ দিয়ালো। তাঁর দারুণ গোলে ম্যাচে সমতায় ফিরেছে আইভরিকোস্ট। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে অনেকটা একক কৃতিত্বে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা। এটি বিশ্বকাপে তাঁর দ্বিতীয় গোল।
অন্যদিকে সমতায় ফেরার পর নরওয়েও আবার আক্রমণের গতি বাড়িয়েছে। আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করছেন মার্টিন ওডেগার্ড ও আলেকজান্ডার সোরলোথ। দুই দলই এখন জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে খেলছে।
ম্যাচের গুরুত্বও অনেক। দুই দলই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে হিসেবি কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। প্রথমার্ধে নরওয়ে আধিপত্য দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে আইভরি কোস্ট দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ম্যাচের ফল কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে সামান্য ভুলই নির্ধারণ করে দিতে পারে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
মতামত দিন