Views Bangladesh Logo

বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করছেন। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এই চর্চা বরিশালের গৌরনদীতে আয়োজিত আন্তধর্মীয় সংলাপেও প্রতিফলিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

চার্চের ফাদার লিটন ফ্রান্সিস গোমেজের সভাপতিত্বে প্রায় এক ঘণ্টার সংলাপটি সঞ্চালনা করেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনও বক্তব্য দেন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণা যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও আগে থেকেই দেশটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস স্বাধীনভাবে পালনের সুযোগের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যের কারণেই ধর্মীয় স্বাধীনতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কোনো মানুষ যেন নিপীড়ন, বৈষম্য কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা ছাড়াই নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন—এটাই ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাঁর ভাষ্য, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ধরে রাখা আরও বড় দায়িত্ব। কোথাও ধর্মীয় বিরোধ তৈরি হলে সেটি যাতে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে।

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই ধারণার প্রশংসা করে ক্রিস্টেনসেন বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের উৎসব ও আনন্দ পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সংস্কৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংলাপে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে দেশে সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আর এর অন্যতম ভিত্তি হলো ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি।

তিনি বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি শুধু শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও সরাসরি সম্পর্কিত। সমাজে স্থিতিশীলতা থাকলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশও শক্তিশালী হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

সংলাপে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার, কলেজ অব ক্রিশ্চিয়ান থিওলজি বাংলাদেশের উপাচার্য রেভারেন্ড পলাশ রায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা নিজেদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত দেন। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।

সংলাপ শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সরিকল এলাকার বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

এর আগে দুই দিনের বরিশাল সফরে রোববার সকালে ঢাকার থেকে লঞ্চে করে বরিশালে পৌঁছান ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সফরের শুরুতে তিনি ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার ও পেয়ারাবাগান ঘুরে দেখেন। পরে বরিশালের কড়াপুরের ঐতিহাসিক মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং কীর্তনখোলা নদীতে নৌবিহারে অংশ নেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ