এআই দিয়ে নারী সেনার পরিচয়ে প্রেম, প্রবাসীর ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা জেলা। নারীকণ্ঠে কথা বলে ইতালিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পিবিআই জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের (৪৬) ইতালিপ্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)। ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শাহাদাতের সঙ্গে টিটুর পরিচয় হয়। ওই পেজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই পেজে ব্যবহৃত নারী সেনাসদস্যের পরিচয় দিয়ে এবং নারীকণ্ঠে ফোনে কথা বলে শাহাদাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন টিটু। পরে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আনুমানিক ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে শাহাদাত ও তার মা বিষয়টি প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন।
এ ঘটনায় প্রথমে শাহাদাতের পক্ষ থেকে একটি সিআর মামলা করা হয়। কেরানীগঞ্জে করা ওই মামলার নম্বর ১০৫০/২৬, তারিখ ৮ জুলাই ২০২৬। তদন্তের সময় পিবিআই বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে।
এরপর বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা নম্বর ২৮ করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. মনজুর রহমান।
পিবিআই জানায়, তদন্তে তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে টিটুর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উদ্ধার করা তিনটি মোবাইল ফোন ও সিম জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর টিটু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে পিবিআই।
তদন্তে পিবিআই আরও জানতে পারে, টিটু নারীকণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ভুক্তভোগীর সঙ্গে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগের পর ইমোতে শাহাদাতের সঙ্গে নারীকণ্ঠে কথা বলতেন তিনি। শাহাদাতের মায়ের কাছে নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই আরও জানায়, পিসিপিআর যাচাই করে টিটুর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে সিআর মামলা নম্বর ৪৫৩/২৫ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন বলেও জানিয়েছে পিবিআই।
এই প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মতামত দিন